জুলাই ২৮, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
দীর্ঘ ৪৬ বছর দীর্ঘ পথপরিক্রমা পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি জাতীয়করণের কোনো ছোঁয়া পায়নি দিনাজপুরের সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নে অবস্থিত মোস্তফাবাদ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বীনি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাগজপত্র ও পরিদর্শন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও কাঙ্ক্ষিত সরকারি স্বীকৃতি না মেলায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠার চার দশক পার হলেও সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে সরকার যখন সারা দেশে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করার উদ্যোগ নিয়েছিল, তখন এই বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে যথাযথ মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছিল।
এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন কাজও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কোনো অদৃশ্য কারণে বিদ্যালয়টি চূড়ান্ত জাতীয়করণের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। দীর্ঘ ২০২৬ সালে এসেও প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ না হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মনের কষ্ট দিন দিন বেড়েই চলেছে।বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ মোট চারজন শিক্ষক কর্মরত আছেন, যারা সুদীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ বিনা বেতন ও সরকারি অনুদান ছাড়াই কোমলমতি শিশুদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তাদের অনেককেই বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় যুক্ত হতে হচ্ছে, যা পাঠদান কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। তাছাড়া তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানোও প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুলটির চারপাশে প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও মৎস্যজীবী পরিবারের অবহেলিত শিশুরা একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানের ওপরই সম্পূর্ণ ভরসা করে আসছে।
এলাকাবাসীর মতে, বিদ্যালয়টি অবিলম্বে জাতীয়করণ করা হলে এই প্রান্তিক জনপদের শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরাও তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নায্য অধিকার ও কর্মপরিবেশ ফিরে পাবেন।সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন