আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার প্রত্যন্ত ঝিনাইকুড়ি গ্রামে এখন বইছে আনন্দের এক অন্যরকম হাওয়া। শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক কড়া সম্প্রদায়ের একটি জীর্ণ কুটিরে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। চরম দারিদ্র্য আর সামাজিক নানা প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে মাধ্যমিকে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে পূজা কড়া নামের এক তরুণী। বিরলের দশ নম্বর রানীপুকুর ইউনিয়নের অঞ্চল কড়া এলাকার এই শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় তিন দশমিক শূন্য ছয় জিপিএ অর্জন করে উত্তীর্ণ হয়েছে।
কড়া সম্প্রদায়ের সুদীর্ঘ ইতিহাসে মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়া সে মাত্র দ্বিতীয় নারী শিক্ষার্থী।পূজার এই বিজয় কেবল একটি সাধারণ সার্টিফিকেট অর্জন নয়, বরং দীর্ঘকাল অবহেলিত একটি জনপদের আলোর পথে এগিয়ে চলার এক নতুন ইতিহাস। এই অভাবনীয় সাফল্যের খবর পেয়ে বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজাউল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে দেরি না করে সরাসরি ঝিনাইকুড়ি গ্রামে পূজার বাড়িতে ছুটে যান।
সেখানে গিয়ে তিনি কৃতি শিক্ষার্থী পূজাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং আগামী দিনে উচ্চশিক্ষা অর্জনে সব ধরনের সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।পরিদর্শনের অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কড়া সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে একটি আন্তরিক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এবং তাদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন।
স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নে এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কিছু মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কড়া সম্প্রদায়ের দুজন ছাত্রী ও একজন ছাত্রের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর করতে তিনটি বাইসাইকেল প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এছাড়া তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করতে স্থানীয় পাঠশালায় দুটি বৈদ্যুতিক পাখা এবং একটি দেয়াল ঘড়ি উপহার দেওয়া হয়। সবশেষে উপস্থিত ছোট-বড় সবার মাঝে মিষ্টি বিতরণ করে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মানবিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
পূজা কড়ার এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে উপযুক্ত সুযোগ এবং সামান্য অনুপ্রেরণা পেলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীও সমাজের মূল স্রোতে নিজেদের অবদান রাখতে সক্ষম। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক উপস্থিতি ও মানবিক সহায়তা কড়া সম্প্রদায়ের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে আরও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন