নভেম্বর ৩, ২০২৫, ০৭:৪২ পিএম
দিনাজপুর পৌরসভার নাগরিকদের পুষ্টিমান বৃদ্ধিকরণ কর্মপরিকল্পনার সমন্বয় ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মুনিসিপ্যালিটি লেভেল মাল্টি-সেক্টরাল নিউট্রিশন কো-অর্ডিনেশন কমিটি (এমএলএমএনসিসি)-এর ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গত ২ নভেম্বর, ২০২৫ দিনাজপুর পৌরসভার আয়োজনে এবং নাইস প্রকল্পের সহযোগিতায় পৌরসভার ফাতেহুল আলম দুলাল মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরকারি, বেসরকারি, পুষ্টি বিশেষায়িত সংস্থা, সুশীল সমাজ, যুব ও ছাত্র-ছাত্রীর প্রতিনিধি মিলিয়ে ৩৩ জন অংশ নেন।
দিনাজপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক মো. রিয়াজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাইস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সোহেল আহমেদ এবং দিনাজপুর পৌরসভার ফোকাল পারসন ও সহকারী ইঞ্জিনিয়ার মো. মিজানুর রহমান সিদ্দিকী।সভায় নাইস প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা, অগ্রগতি ও আগামীর পরিকল্পনা তথ্য ভিত্তিক ভিডিওতে প্রদর্শন করেন সেফ (SAAF) বাংলাদেশের নাইস প্রকল্পের নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট নুসরাত আলম বিভা।
তিনি জানান, নাইস প্রকল্পের মাধ্যমে শুধুমাত্র সচেতনতাই নয়, পাশাপাশি এগ্রোইকোলজিক্যাল পদ্ধতিতে উৎপাদন, চাহিদা ও সরবরাহে দিনাজপুর জেলায় বিগত চার বছরে উল্লেখযোগ্য বাস্তব প্রভাব পড়েছে।ইএসডিও (ESDO) নাইস প্রজেক্টের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর প্রত্যয় চ্যাটার্জ্জীর সঞ্চালনায় বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের উপপরিচালক ডা. মো. আকতার ইমাম বলেন, "আগামীতে শহরের পুষ্টি নিয়ে সরকারি কার্যক্রম বাস্তবায়নে শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে হবে না, সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।"
এরপর তিনি পৌরসভার এক বছরের পুষ্টি কার্যক্রমের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে উপস্থিত সকল সদস্যের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন।কমিটির সভাপতির অনুমোদনে এই সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভেইলেন্স ও ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার, যুব প্রতিনিধি হিসেবে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কিল ডেভলপমেন্ট ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে নিউট্রিশন ক্লাবের সদস্য হতে ১ জন প্রতিনিধি নতুন সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
সভাপতির বক্তব্যে পৌরসভার প্রশাসক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, "আমাদের নিজ দায়িত্বে এই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কিংবা সংস্থার সহযোগিতা নিতে হবে।" তিনি নাইস প্রজেক্টের পুষ্টি বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য এরিয়া ভিত্তিক উঠান বৈঠকের ব্যবস্থা করে কার্যক্রম বুঝাতে এবং পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতার আলো ছড়াতে আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, আরো তিন বছরের জন্য নাইস প্রজেক্ট বৃদ্ধির কর্মক্ষেত্রে পৌরসভা সার্বিক ও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এ সময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মিনারুল ইসলাম খান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার রওনকুল ইসলাম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারিফুর রহমান সরকার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোর্শেদ আলী খান, জেলার অতিরিক্ত প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো. গোলাম কিবরিয়া, জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান, দিনাজপুর ভোক্তা
অধিকারের সহকারী-পরিচালক বোরহান উদ্দীন, সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, দিনাজপুর নিরাপদ খাদ্য অফিসার গৌতম কুমার সাহা প্রমুখ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইএসডিও নাইস প্রজেক্টের প্রজেক্ট অফিসার মো. ইসমাইল হোসেন এবং ফাইনেন্স ও অ্যাডমিন অফিসার মো. হোসেন আলী।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন