শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

বিরলের হাট-বাজারে আগাম আমন ধান ,দাম নিয়ে অভিযোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৫, ০৭:৫৭ পিএম

বিরলের হাট-বাজারে আগাম আমন ধান ,দাম নিয়ে অভিযোগ

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বিরলে আগাম জাতের আমন ধান এখন হাট-বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম নিয়ে কৃষক ও ক্রেতাদের মাঝে রয়েছে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ। কৃষকদের দাবি, উৎপাদিত ধান যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। অন্যদিকে, ফড়িয়া ও মিলাররা বলছেন, সরকারের এলসি (LC), টিআর (TR) ও জিআর (GR)-এর চালের কারণে বাজারে ধান বিক্রি কমে যাওয়ায় কিনে পোষাচ্ছে না।

উপজেলার সবচেয়ে বড় ধানের হাট হলো ৩নং ধামইড় ইউনিয়নের ধুকুরঝাড়ী বাজার, যেখানে সপ্তাহে প্রতি মঙ্গলবার ধানের হাট বসে। হাটের দিন ভোর সাড়ে ৫টা থেকে কৃষকেরা ভটভটি, নছিমন ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে ধান নিয়ে আসতে শুরু করেন। ভোর থেকে শুরু হয়ে কেনা-বেচা চলে সকাল ১১টা পর্যন্ত। দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ ও দিনাজপুর-কাহারোল পাকা সড়কের উভয় পাশে সারি সারিভাবে বসে এই ধানের হাট।

বর্তমানে বাজারে আগাম জাতের আমন ধান বিনা-৭, বিনা-১৭, বিনা-৭৫ প্রতি মন ১০২৫ থেকে ১০৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাথরফাঁটা ও কোটরাপাড়ি জাতের ধান ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, পুরানো বোরো সম্পা কাটারী ও বগুড়া কাটারী প্রতি মন বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৬৫০ টাকা দরে।

কৃষকদের অভিযোগ, ধান বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচ উঠছে না।অপরদিকে, ক্রেতা ও ফড়িয়ারা বলছেন, মিল চালানোর জন্য কাঁচা ধান কিনছেন তারা, কিন্তু চালের দাম বেশি হওয়ায় ধান কিনে তাদের পোষাচ্ছে না। তাদের মতে, বাজারে এলসি, সরকারি টিআর (ত্রাণ) ও জিআর (ত্রাণ) এর চালের কারণে ধান বিক্রি কমে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, এবারে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিছু এলাকায় ধান কাটা-মাড়াই চলছে এবং আর কয়েক দিনের মধ্যে পুরোপুরি ধান কাটা-মাড়াই শুরু হবে।তিনি আরও জানান, এবারের মৌসুমে উপজেলায় ২৮ হাজার ৯২৭ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৬ হাজার ৫০৯ মেট্রিক টন চাল।