রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইউরোপে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৫ শতাংশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

ইউরোপে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৫ শতাংশ

রপ্তানিতে মন্দার প্রভাব

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সদস্য দেশগুলোর বাজারে বছরের শুরুতেই বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইইউর বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। 

এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৩ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১৯১ কোটি ইউরো। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪৮ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পতনের পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে একটি হলো রপ্তানির সামগ্রিক পরিমাণ কমে যাওয়া এবং অন্যটি পণ্যের গড় মূল্য বা ইউনিট প্রাইস হ্রাস পাওয়া। পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারিতে রপ্তানির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। 

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে, তাই এই বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইউরোপীয় বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ইউরোপের ভোক্তা বাজারেও বর্তমানে এক ধরনের দুর্বলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, সুদের হার বৃদ্ধি ও খুচরা বিক্রিতে ধীরগতির কারণে পোশাকের সামগ্রিক চাহিদা সেখানে কমেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে অর্ডার দিচ্ছেন এবং বাড়তি প্রতিযোগিতার সুযোগে তারা রপ্তানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে দরাদরি করে পণ্যের দাম কমিয়ে দিচ্ছেন। 

এই পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং ইইউর অন্যান্য প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর জন্যও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুরস্কের রপ্তানি কমেছে ২৯ দশমিক ১২ শতাংশ এবং চীনের রপ্তানি আয়ও নিম্নমুখী। ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোও বর্তমানে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখোমুখি হচ্ছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাজারেই পোশাক আমদানিতে বর্তমানে মন্দা চলছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইইউর মোট পোশাক আমদানি প্রায় ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে সাত বিলিয়ন ইউরোর ঘরে নেমে এসেছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ডিটুসি বা সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়াতে অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। চীন ইতোমধ্যেই এই প্রক্রিয়ায় অনলাইনে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিয়ে সাফল্য পাচ্ছে। আমাদেরও উচিত হবে মধ্যস্বত্বভোগী এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় পোশাক খাতে পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং উচ্চমূল্যের পোশাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাণিজ্য কূটনীতি জোরদার এবং নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান করার বিকল্প নেই। অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে না পারলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। সামগ্রিকভাবে রপ্তানি খাতের এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।