বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মুরগির বাজারে স্বস্তি ভোজ্যতেল ও সবজির খবর কী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

মুরগির বাজারে স্বস্তি ভোজ্যতেল ও সবজির খবর কী

রাজধানীর সবজি বাজারের চিত্র

দীর্ঘদিন চড়া থাকার পর অবশেষে দেশের মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তির দেখা মিলেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে থেকে বাড়তে থাকা মুরগির দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে মুরগির বাজারে সুবাতাস বইলেও সাধারণ ক্রেতাদের অস্বস্তি কাটছে না ভোজ্যতেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার বাজার নিয়ে। 

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো বিদ্যমান রয়েছে এবং ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে বিভিন্ন পদের মসলার দাম।শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি স্বস্তি দেখা গেছে সোনালি মুরগির দামে। 

গত সপ্তাহের তুলনায় সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৭০ টাকা পর্যন্ত কমে ৩৮০ টাকায় নেমে এসেছে। বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে সরবরাহ বাড়ার কারণেই মুরগির দামে এই পতন। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন।

মুরগির বাজারে সুসংবাদ থাকলেও ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা কাটেনি। বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ বাড়লেও তা চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। অনেক দোকানে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির বোতলজাত তেল একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা বিক্রেতারা জানান, কোম্পানিগুলো থেকে তেলের সরবরাহ নিয়মিত না হওয়ায় যেটুকু আসে তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। তেলের এই সংকটের পাশাপাশি মসলার বাজারেও নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। মাস ব্যবধানে এলাচ ও লবঙ্গের দাম কেজিতে প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া পোলাওয়ের চালসহ কিসমিস ও বাদামের দামও এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সবজির বাজারে চলতি সপ্তাহে কিছুটা মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সরবরাহ বাড়ায় পটল, ঢ্যাঁড়স ও করোলার মতো সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। তবে সব সবজির দাম কমেনি, উল্টো সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের তালিকায় থাকা বেগুনের দাম বেড়েছে। বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন এখন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা বলছেন, বাজারে একটি পণ্যের দাম কমলে অন্যটির দাম বেড়ে যাওয়ার এই চক্র তাদের বাজেটকে প্রতিনিয়ত চাপের মুখে ফেলছে। ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও কেনাকাটার পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম। অধিকাংশ ক্রেতা তাদের প্রয়োজনীয় তালিকার অর্ধেক পণ্য কিনেই ঘরে ফিরছেন।

যাচাইকৃত তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। এছাড়া মসলা ও চালের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি সংস্থাগুলোর তদারকি বাড়লে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।