এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি নাকচ করে দিয়েছে সরকার। সংস্কারের ব্যর্থতার অজুহাতে ঋণ কর্মসূচি আটকে দেওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে অভিহিত করা হয়েছে।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক এবং ঋণের বিষয়ে আলোচনা সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আইএমএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও প্রাণবন্ত বৈঠক সম্পন্ন করেছে।
প্রথম বৈঠকটি সকালে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন ও তাঁর দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেলে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে প্রতিনিধি দলটি দ্বিতীয় বৈঠকে অংশ নেয়। উভয় বৈঠকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।বৈঠকগুলোতে অর্থমন্ত্রী বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
বিশেষ করে দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের আমূল সংস্কারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অধিকাংশ বিষয়ে আইএমএফ এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল একমত পোষণ করেছে। তবে সরাসরি জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু সংবেদনশীল বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কারণে মতপার্থক্যের অবকাশ থাকলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে।
দুই পক্ষই মনে করছে যে, আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।আইএমএফ স্পষ্টভাবেই জানিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীজন এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের সময়কালেও তারা বাংলাদেশের পাশেই থাকতে চায়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে ঋণ স্থগিতের মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বরং প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে দিনের দোহাই দিয়ে স্থগিতের কথা বলা হয়েছে, সেদিন আইএমএফের সঙ্গে সরকারের কোনো বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রকৃতপক্ষে বৈঠকগুলো হয়েছে তার পরের দিন এবং সেখানে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সুতরাং `সংস্কারে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে কিস্তি স্থগিত`—এমন শিরোনামে প্রকাশিত খবরটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে সরকার মনে করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঋণের পরবর্তী কিস্তি পাওয়ার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আশাবাদী।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন