এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ফের অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরপরই পণ্যটির দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। রবিবার রাতে বৈশ্বিক তেলের মূল্য নির্ধারণের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রবিবার মধ্যরাতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৩৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার আগের সময়ের তুলনায় এই দাম প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাবস্থার আশঙ্কায় তেলের বাজারে এই অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।এদিকে তেলের বাজারে অস্থিরতা চললেও এশিয়ার পুঁজিবাজারে সপ্তাহের শুরুটা হয়েছে কিছুটা ইতিবাচক ধারায়। টোকিওতে নিকেই২২৫ সূচক সকালের লেনদেনে প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তে দেখা গেছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকও প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুঁজিবাজারের এই চাঙাভাব তেলের বাজারের নেতিবাচক প্রভাবকে কিছুটা আড়াল করলেও পরিস্থিতি যে কোনো সময় পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা আপাতত যুদ্ধবিরতি নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে পাশ কাটিয়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার ওপর আস্থা রাখার চেষ্টা করছেন। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা যদি প্রলম্বিত হয়, তবে জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় ভবিষ্যতে বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন