বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে থাকতে চায় না সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক!

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে থাকতে চায় না সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক!

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের চার মাস না যেতেই আলাদা হওয়ার আবেদন করেছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)। ব্যাংকটির সাবেক উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন পরিচালক সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে এই আবেদন জমা দিয়েছেন।

সম্প্রতি সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়েছে। এই আইনের ১৮-ক ধারায় পুরোনো পরিচালকদের ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ওই বিধান উল্লেখ করেই সাবেক উদ্যোক্তারা পুনরায় ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব চেয়েছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের দখলের আগে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক নিয়মিত ১১ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দিয়েছে।

সাবেক উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) ডা. রেজাউল হক জানান, বর্তমানে বিভিন্ন উৎস থেকে নতুন বিনিয়োগ পাওয়া সম্ভব। ব্যাংকটির ঝুঁকি কমাতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে তারা ৯টি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন। 

তবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কারিগরি ও নীতিগত সহযোগিতা চেয়েছেন।অন্যদিকে অর্থনীতি বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগ নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহীদ জানান, এসব ব্যাংককে পুরোপুরি নিজেদের ওপর ছেড়ে দিলে সমস্যা বাড়তে পারে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি কোষাগার থেকে নেওয়া বিপুল অর্থ লাভ করে ফেরত দেওয়া তাদের জন্য অনেক কঠিন হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অডিটে এসআইবিএলের আর্থিক অবস্থার একটি চিত্র পাওয়া গেছে। অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত খেলাপি ঋণ ছিল ৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। এই ঋণের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে গোপন রাখা হয়েছিল বলে অডিটে উঠে এসেছে।

আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু অর্থ সহায়তা দিয়ে এসব ব্যাংক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বরং ব্যাংকগুলোর প্রকৃত সক্ষমতা ও দায় গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।