রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১০, ২০২৬, ১২:১১ পিএম

অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

বক্তব্য দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী

সরকার দেশের অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ করতে চায় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূলধারার অর্থনীতির বাইরে থাকা মানুষদের সরকার অর্থনীতির মূলস্রোতে নিয়ে আসতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবে এটি সবার অধিকার এবং শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলেই হবে না, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র থাকতে হবে।মন্ত্রী জানান, যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে এবং সেই মানদণ্ড পূরণ না করলে সরকার কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে না। 

পিকেএসএফের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে কী কী প্রয়োজন, তা সরকার বিবেচনা করছে।নারীদের অর্থনৈতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীরা পুরো পরিবারকে আগলে রাখেন এবং সঞ্চয় করতে জানেন। 

এ জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাঁদের আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এই অর্থ গ্রামীণ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ সৃষ্টি করবে। একইভাবে কৃষক কার্ডও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।দেশের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী একে অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো হবে এবং এই সেবাগুলো জনগণের নাগালের মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের যে সম্ভাবনা অবশিষ্ট রয়েছে, সরকার তা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চায়।বিশ্ববাজারে হস্তশিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো এই বাজার ধরতে পারছে না। শীতলপাটির মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি করতে না পারার পেছনে পরিকল্পিত জোর না থাকাকে দায়ী করেন তিনি। তিনি মনে করেন, ভালো ডিজাইন ও আন্তর্জাতিক মানের মার্কেটিং কৌশল কোনো পণ্যের মূল্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

বাংলাদেশের মিউজিক, থিয়েটার ও খেলাধুলাকেও বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের অভাবে এসব খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এশিয়ার অন্যান্য দেশ অ্যামাজনসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের পণ্য বিশ্ববাজারে তুলছে, বাংলাদেশকে দ্রুত সেই পথে এগোতে হবে।

খেলাধুলা জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, হাজার হাজার মানুষ খেলা দেখতে আসে, যা একটি বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এসব সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।