জুন ১১, ২০২৬, ১১:০৬ এএম
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ভঙ্গুর অর্থনীতির এই সময়ে সরকারের সামনে এটি বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় আগামী অর্থবছরে সরকারকে ১৯ শতাংশ বেশি ব্যয় করতে হবে। বিশাল এই ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা অর্থমন্ত্রীর জন্য এক কঠিন পরীক্ষা।
বাজেটের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ ও ভর্তুকিসহ পরিচালন ব্যয় মেটাতে হবে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত বিশাল অংকের অর্থ যোগান দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। রপ্তানি আয় কমছে এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এখনো কাটেনি। এছাড়া খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি ও উচ্চ সুদহার স্থানীয় বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী অর্থবছরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মোট দেশজ উৎপাদনের ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ। সরকার মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের কঠিন লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। গত ১০ মাসে শুল্ক ও কর আদায়ে যে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা পূরণ করে বাড়তি ২১ শতাংশ রাজস্ব আদায় করা সরকারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা।
রাজস্ব আয় দিয়ে পুরো ব্যয় মেটানো সম্ভব নয় বলে ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আসন্ন অর্থবছরে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা এবং ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের এই ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা বেসরকারি খাতের মূলধন প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার মোট দেশজ উৎপাদন প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। একই সাথে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ বিভিন্ন সংস্থা বলছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বেশ কঠিন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই হবে অর্থমন্ত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে বাজার তদারকি জোরদার করা এবং নিম্নআয়ের পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, বিশাল লক্ষ্যমাত্রার এই বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার কতটা সফল হতে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন