জুন ১১, ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর এবার বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বাজার হিসেবে পরিচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে যে তৈরি পোশাক খাত থেকে, সেখানে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই এই তীব্র নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় দেশের সাধারণ পোশাক উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে এখন গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।টানা কয়েক মাসের দুর্বলতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর যেটুকু সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ধরে রাখা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল বা ওটেক্সার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। শতকরা হিসেবে এই পতনের পরিমাণ প্রায় ১৭ দশমিক ২১ শতাংশ। রপ্তানিকারকদের দাবি, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন করে আরোপ করা কঠোর শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফই মূলত এই ধসের প্রধান কারণ। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২৯৮ কোটি ডলারের পোশাক পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, যা আগের বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ কম।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু রপ্তানি আয় নয়, বরং ইউনিটপ্রতি গড় মূল্য এবং পণ্যের পরিমাণ উভয় ক্ষেত্রেই একটি বড় সংকুচিত ভাব দেখা গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বেশি থাকার কারণে সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমে গেছে, যার সার্বিক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব বাণিজ্যে। তবে এই সংকটের মাঝেও সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ভিয়েতনামের মতো আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলো একই বাজারে তাদের রপ্তানি ১ দশমিক ৩১ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি কম্বোডিয়াও এই মন্দার মাঝে ১৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন চমক দেখিয়েছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বা বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং মার্কিন ক্রেতাদের বাড়তি খরচের বড় অংশ ভোক্তার ওপর পড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতায় পোশাক খাতে এই নেতিবাচক অবস্থা কাটিয়ে ইতিবাচক ধারা কবে ফিরবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা এই মুহূর্তে অত্যন্ত কঠিন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন