রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পেপ্যাল সেবা চালুর পথ উন্মুক্ত করল বাংলাদেশ ব্যাংক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ৩০, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম

পেপ্যাল সেবা চালুর পথ উন্মুক্ত করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে পেপ্যাল ও পেওনিয়ারের মতো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট এবং অর্থ স্থানান্তর সেবা চালুর পথ উন্মুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালার আওতায় দেশের ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে আন্তসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা চালু করতে পারবে।বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। আন্তর্জাতিক সেবামুখী বাণিজ্য সহজীকরণ, ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং দেশের বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সহজ করার লক্ষ্যেই নতুন এই কাঠামো চালু করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী কাঠামো প্রবর্তন করা হয়েছে। এর আওতায় দেশের ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য বৈধ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সমাধান প্রদানকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সেবা দিতে পারবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট নামে ডিজিটাল ওয়ালেট খোলার ব্যবস্থা করবে ব্যাংকগুলো। তবে এসব হিসাব সরাসরি পরিচালিত হবে না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি মাস্টার সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। লেনদেনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা এবং পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করতে পারবেন। ব্যক্তিগত, চিকিৎসা কিংবা সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদিত কোটার আওতায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া অনলাইনে ছোট পরিসরের আন্তর্জাতিক কেনাকাটা বা বিভিন্ন ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ তিনশ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করা সম্ভব হবে। সদস্যপদ ফি, তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট ব্যয়, ভিসা প্রসেসিং ফি এবং অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের অর্থ পরিশোধেও এই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করা যাবে।

রফতানিকারক ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট হিসাবের বিপরীতে এই সুবিধা গ্রহণ করা যাবে। ফ্রিল্যান্সার এবং ই-কমার্স উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে অর্জিত অর্থ আরও সহজে দেশে আনতে পারবেন, যা দেশের বৈদেশিক আয়ের প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। এছাড়া বাংলাদেশে আগত বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকরাও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন। এই সেবা চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে কারিগরি সক্ষমতা ও নিরাপত্তা অবকাঠামোর বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে পূর্বানুমোদন নিতে হবে।