আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
তারল্য সংকটে ধুঁকতে থাকা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নবগঠিত বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ব্যাংকিং কার্যক্রম গতিশীল করার অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র বা স্বল্প আমানতকারীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর এসেছে।জরুরি প্রয়োজনে এখন থেকে ব্যাংকটির গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন।
এর আগে এই উত্তোলনের সীমা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আমানত ফেরতের জন্য একটি ধাপভিত্তিক স্কিম চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রথম ধাপে গ্রাহকরা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তোলার পর প্রতি তিন মাস পরপর নিয়মিত উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। দুই বছরের মধ্যে আমানত সম্পূর্ণ ফেরতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ব্যাংকটি।
তবে কয়েক কোটি টাকার বৃহৎ আমানতকারীদের ক্ষেত্রে কী নীতিমালা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।এদিকে লেনদেনে গতি আনতে প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব একীভূত চেকবই এখনো চালু না হওয়ায় পুরোনো ব্যাংকের চেক ব্যবহারে কিছুটা সময় অপচয় হচ্ছিল। এই সমস্যা কাটাতে এক্সিম ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সিস্টেম এবং সিটি ব্যাংকের আধুনিক ডাটা সেন্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে গ্রাহকদের সেবা প্রাপ্তি সহজ হবে এবং লেনদেনের দীর্ঘসূত্রিতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সংকট, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং করপোরেট সুশাসনের অভাবে গভীর সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংককে একত্র করে এই নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এই ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ দুই লাখ কোটি টাকার বেশি।
তবে এর একটি বড় অংশই ঋণ হিসেবে আটকে রয়েছে।অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকটির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে মূলত বড় ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং প্রযুক্তিগত পূর্ণাঙ্গ সমন্বয়ের ওপর।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন