অক্টোবর ২২, ২০২৫, ১০:৩৮ এএম
দেশের বাজারে আবারও বাড়লো মূল্যবান ধাতু সোনার দাম। ভোক্তাদের জন্য দুঃসংবাদ দিয়ে এবার প্রতি ভরিতে এক হাজার টাকার বেশি মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এই নতুন সমন্বয়ের ফলে হলমার্ক করা ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড। গত রবিবার রাতে বাজুস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
সোমবার, ২০ অক্টোবর থেকে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে এবং আজ বুধবার, ২২ অক্টোবরও বাজার এই নতুন মূল্যেই স্থিতিশীল রয়েছে।বাজুস জানিয়েছে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হলো স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়া। তেজাবি সোনা হলো খাঁটি সোনা, যা অন্যান্য ক্যারেটের গহনা তৈরির মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যখন স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে এই খাঁটি সোনার দাম বাড়ে, তখন জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে খুচরা পর্যায়ে গহনা ও সোনার দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়।
এবারের বৃদ্ধি সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই অংশ। সোনার বাজারের এই অস্থিরতা ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যারা সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে সোনা কেনার পরিকল্পনা করছিলেন বা যাদের পরিবারে বিয়ের আয়োজন চলছে, তারা নতুন করে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন।বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, আজ বুধবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকায়।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৫০৩ টাকা। একইভাবে, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৫৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার ক্ষেত্রেও দাম সমন্বয় করা হয়েছে; প্রতি ভরি সনাতন পদ্ধতির সোনা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫ টাকায়। এই দাম বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলে, কারণ সোনাকে মূল্যস্ফীতির বিপরীতে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
তবে ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত এই দামই সোনার গহনা কেনার চূড়ান্ত মূল্য নয়। বাজুসের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ক্রেতাদের সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রদান করতে হবে। এর পাশাপাশি যোগ হবে বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বা গহনা তৈরির খরচ। এই মজুরি অবশ্য নির্দিষ্ট নয়; গহনার ডিজাইন, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং মানের ওপর ভিত্তি করে এই মজুরি আরও বেশি হতে পারে।
ফলে একজন ক্রেতা যখন শোরুম থেকে গহনা কেনেন, তখন তাকে সোনার মূল দামের সাথে ভ্যাট এবং নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি যোগ করে চূড়ান্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয়।এদিকে জুয়েলার্স সমিতি শুধু সোনার দামই নয়, রুপার দামও সমন্বয় করেছে। সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ২০৫ টাকায়।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯১৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৮০২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনার দামের ক্রমাগত বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং এটি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সঞ্চয়ের পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।




দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন