জুন ১৩, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
দেশের সাধারণ সর্বস্তরের মানুষের গভীর চোখ এখন মূলত আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন জাতীয় বাজেটের দিকে। বর্তমানে খোলা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি জিনিসের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এমন এক কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সীমিত আয়ের সঙ্গে প্রাত্যহিক ব্যয়ের হিসাব মেলাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো।
নতুন এই আর্থিক বছরের বাজেটে তাদের জীবনযাত্রার মান সহজ করতে ঠিক কী ধরনের কল্যাণমূলক পদক্ষেপ থাকছে, তা নিয়ে এখন সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা চলছে।কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার বিশাল অঙ্ক সেই সাধারণ প্রত্যাশাকে শেষ পর্যন্ত কতটা পূরণ করবে তা নিয়ে গভীর সংশয় আছে।প্রতিবারের মতো এবারও রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি বিশাল আকারের রেকর্ড ব্যয় পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
তবে এই বিপুল পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে গিয়ে স্বভাবতই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়াতে হয়েছে অনেকখানি। এই অতিরিক্ত কর আদায়ের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের পকেটে। কারণ দেশের বর্তমান রাজস্ব কাঠামো অনুযায়ী ভ্যাট বা পরোক্ষ করের চূড়ান্ত বোঝা দিন শেষে সাধারণ ভোক্তাদেরই বাধ্যতামূলকভাবে বহন করতে হয়।
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রান্তিক মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানো নিয়ে বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা অত্যন্ত জরুরি। শুধু সাময়িকভাবে নগদ ভাতা বা চাল-গম বিতরণ বাড়ানো নয়, বরং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই আয়ের পথ তৈরি করা প্রয়োজন। তা না হলে দেশের ধনী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যকার বিদ্যমান সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ভবিষ্যতে আরও বড় ও মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
এদিকে মাথার উপরে থাকা বৈদেশিক ঋণের বিশাল কিস্তি পরিশোধের বোঝা এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের দেওয়া বেশ কিছু কঠিন শর্ত পূরণের এক তীব্র আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে সামষ্টিক অর্থনীতিতে। আর্থিক খাতের আমূল সংস্কার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি কমানোর মতো কিছু অত্যন্ত কঠিন ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত এবার সরকারকে নিতে হচ্ছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ানোর ফলে শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় অনেকটাই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এতে দেশের মূল চালিকাশক্তি কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এই বিশাল বাজেটে কেবল ফাঁকা টাকা বরাদ্দের চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো সেই অর্থের সঠিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়ন। রাষ্ট্রীয় সুশাসন ও স্বচ্ছতা মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে নিশ্চিত করা না গেলে কাগজের এই জটিল হিসাব সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন