শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬,

জনগণের সম্পদ রক্ষায় রাজনৈতিক শক্তি বিকাশের আহ্বান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

জনগণের সম্পদ রক্ষায় রাজনৈতিক শক্তি বিকাশের আহ্বান

ছবি :সংগ্রহীত

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা জনগণের উপকারে আসছে না বলে মনে করেন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তাঁর মতে, দেশের দারিদ্র্যের মূল কারণ সম্পদের অভাব নয়। বরং সম্পদের ওপর জনগণের মালিকানা না থাকা এবং তা প্রতিনিয়ত বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়াই এই দুর্দশার প্রধান কারণ।

বিদেশিদের হাতে দেশের সম্পদ তুলে দেওয়াকে তিনি আত্মঘাতী কাজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইতিহাস পর্যালোচনা করে এই বুদ্ধিজীবী জানান, মোগল ও ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তানি শাসনামলেও এ দেশের সম্পদের ওপর সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এই সম্পদের মালিকানা অর্জন। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পরও দেশের সম্পদের ওপর সাধারণ দেশবাসীর কর্তৃত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পানিবণ্টন ও খনিজ সম্পদ নিয়ে প্রতিবেশী ও বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর আধিপত্যের সমালোচনা করেন তিনি। ফারাক্কা, তিস্তা ও টিপাইমুখ বাঁধের সমস্যার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার গ্যাসক্ষেত্র এবং এশিয়া এনার্জির মতো বিদেশি কোম্পানির উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলনের অপচেষ্টার কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। সম্প্রতি গভীর সমুদ্রে গ্যাস উত্তোলনের জন্য বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে তিনি সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের চুক্তি নাইজেরিয়ার মতো দুর্ভাগ্য ডেকে আনতে পারে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তির বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিরোধী দলগুলো অন্যান্য বিষয়ে সোচ্চার হলেও দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নীরবতা চরম বিপজ্জনক বলে তিনি মনে করেন।

একাত্তরের চেতনায় মুক্তির সংগ্রাম চলমান রাখার ওপর জোর দেন এই শিক্ষাবিদ। দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তি বিকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বিশ্লেষণ শেষ করেন।