রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

১ জানুয়ারি বই পাচ্ছে না মাধ্যমিকের কোটির বেশি শিক্ষার্থী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ১০:০৫ এএম

১ জানুয়ারি বই পাচ্ছে না মাধ্যমিকের কোটির বেশি শিক্ষার্থী

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে মাত্র তিন দিন বাকি থাকলেও মাধ্যমিক স্তরের ১ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য ১ জানুয়ারি নতুন বই পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তুক বোর্ডের (এনসিটিবি) অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট এবং দরপত্র জটিলতার কারণে মাধ্যমিক স্তরের সাড়ে ১১ কোটির বেশি পাঠ্যবই এখনো ছাপাই শেষ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই অচলাবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে মার্চ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এনসিটিবির তথ্যমতে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩০ কোটি বইয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও মাধ্যমিকের ২১ কোটি ৪৩ লাখ বইয়ের একটি বিশাল অংশ এখনও প্রেসেই যায়নি।

অভিযোগ উঠেছে, এনসিটিবির সদস্য ড. রিয়াদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বই ছাপানোর কাজে ধীরগতি ও কমিশন বাণিজ্যে লিপ্ত।

এই চক্রটি পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পেপার মিলের সঙ্গে অঘোষিত চুক্তি করে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রেস মালিকরা। এমনকি আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ একাধিক প্রেস মালিককে কাজ দেওয়ার অভিযোগে আগে একবার দরপত্র বাতিল হওয়ায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বই ছাপানোর কাজ মারাত্মকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণিতে বই ছাপানোর হার এখন পর্যন্ত মাত্র ৪.৫ শতাংশ। এনসিটিবির অসাধু কর্মকর্তারা কাগজের মান শিথিল করে এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৬৫ হাজার টন কাগজের টনপ্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা কমিশন বাণিজ্য করা হচ্ছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এনসিটিবি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, দরপত্র বাতিলের কারণে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে জানুয়ারি মাসে সব বই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এদিকে, মাধ্যমিকের ১ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার এই শঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। ১ জানুয়ারি বই উৎসবের আমেজ এবার ম্লান হতে চলেছে এনসিটিবির অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির কারণে।