ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫, ১০:১১ এএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে আমূল পরিবর্তন ও পরিমার্জন আনা হয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বইগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিগুলো বাদ দেওয়ার পাশাপাশি গত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থা ও সাম্প্রতিক বিপ্লবের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বই পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ব্যবহৃত ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি অধিকাংশ স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, ২১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত ৭ মার্চের ভাষণের বর্ণনায় আগে যেখানে পাঁচবার ‘বঙ্গবন্ধু’ লেখা ছিল, বর্তমানে সেখানে শুধু ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ লেখা হয়েছে। তবে কিছু জায়গায় তাঁকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন কী যুক্ত হয়েছে? ২০২৬ সালের পাঠ্যবইয়ে গত বছরের তুলনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও বিষয়বস্তু যুক্ত হয়েছে:জুলাই বিপ্লব: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বিস্তারিত ইতিহাস।ফ্যাসিবাদ ও পলায়ন: শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল শাসন থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার পলায়নের ঘটনা।গণতান্ত্রিক ইতিহাস: সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা, এরশাদের ৯ বছরের স্বৈরশাসন এবং বেগম খালেদা জিয়ার শাসন আমলের কথা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবি’র একটি সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে লিখিত নির্দেশনার পর এই সংশোধনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সিদ্ধান্তের আলোকে ইতিহাস ও শাসনতান্ত্রিক বিষয়গুলোতে এই সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। রোববার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের এসব বইয়ের অনলাইন ভার্সন ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
পাঠ্যবইয়ে উপাধি বাতিলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ঐতিহাসিক যুক্তিও উঠে এসেছে। গবেষকদের দাবি, শেখ মুজিবের প্রায় ৭৮ বছর আগেই সমাজ সংস্কারক মুন্সী মেহেরুল্লাহ প্রথম ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি পেয়েছিলেন। ১৯০৭ সালে ইন্তেকাল করা এই ধর্মপ্রচারককে তৎকালীন পণ্ডিতরা ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করতেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।আওয়ামী লীগের গত ১৫ বছরের শাসনামলে পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস বিকৃতির যে অভিযোগ ছিল, বর্তমান পরিমার্জন তাকে শোধরানোর একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছে এনসিটিবি’র বিশেষজ্ঞ কমিটি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন