জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও মাধ্যমিক স্তরের অনেক শিক্ষার্থী এখনো সব পাঠ্যবই হাতে পায়নি। বিশেষ করে অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই প্রাপ্তিতে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে মাধ্যমিক ও কারিগরি স্তরের অবশিষ্ট সব বই সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) এনসিটিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকলেও নিবিড় তদারকির মাধ্যমে ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই সব কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বই বিতরণের বর্তমান পরিসংখ্যান: এনসিটিবির তথ্যমতে, চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য নির্ধারিত মোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪ কপি পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত গড়ে ৮৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্তর: প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের প্রায় ৮ কোটি ৫৯ লাখ বই শতভাগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ১ জানুয়ারিতেই তারা সব বই পেয়েছে।ষষ্ঠ থেকে নবম ও ইবতেদায়ি স্তরের ২১ কোটি ৪৩ লাখ বইয়ের মধ্যে ৭৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ৮৮ দশমিক ৫০ শতাংশ।
শিক্ষক ও মাঠ পর্যায়ের অভিযোগ: এনসিটিবি সফলতার দাবি করলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন।
নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা জানান, প্রাথমিকের সব বই পেলেও মাধ্যমিকের অনেক বই পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির কোনো বই তারা পাননি।
কেরানীগঞ্জ শুভাঢ্যা হাই স্কুল: প্রধান শিক্ষক গোলাম হোসেন জানান, নবম শ্রেণির বই সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে।
অষ্টম শ্রেণির বই নিয়ে জটিলতা কেন? সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার অষ্টম শ্রেণির বই নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ হিসেবে ‘লো বিডিং’ বা কম দরকে দায়ী করা হচ্ছে। এনসিটিবি প্রতি ফর্মার প্রাক্কলিত দর ৩ টাকা ৪০ পয়সা ধরলেও, কাজ পাওয়ার আশায় কিছু প্রেস মালিক মাত্র ২ টাকা ৮৩ পয়সায় টেন্ডার জমা দেন। এখন লোকসানের ভয়ে তারা সময়মতো বই ছাপছেন না।তবে এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মতিউর রহমান পাঠান এই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, অষ্টম শ্রেণির অর্ধেকের বেশি বই স্কুলে পৌঁছে গেছে। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব ক্লাসের সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন