এপ্রিল ১, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকায় বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার মোট ১৯টি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থগিত করে নতুন আরও ১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মূলত বিভিন্ন অনিয়ম, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বোর্ড সূত্র নিশ্চিত করেছে। এবার মোট ২৯৯টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার বিশেষ নজরদারিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মতিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্থগিত হওয়া কেন্দ্রগুলোর তালিকায় রয়েছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, সাতক্ষীরার সুভাষিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনার রূপসা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং রোটারী স্কুল।
এছাড়া খুলনার পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খালিশপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আফিলউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আরআরএফ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বি কে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনও এই তালিকায় রয়েছে। বোর্ডের প্রশাসনিক তথ্যানুযায়ী খানাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল, যশোরের সিদ্দিপাশা ও পাঁচবাড়িয়া পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মেহেরপুরের সুগিরগোফা ও সাহেবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সুবিধাও স্থগিত করা হয়েছে।
ঝিনাইদহের রঘুনাতপুর ও চাপরাইল এবং চুয়াডাঙ্গার হাসাদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও এবার কেন্দ্র হিসেবে থাকছে না।অন্যদিকে স্থগিত হওয়া কেন্দ্রের শূন্যস্থান পূরণে সমসংখ্যক নতুন কেন্দ্র যুক্ত করা হয়েছে। নতুন অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রূপসার জে কে এস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ডুমুরিয়ার বানিয়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়`
তেরখাদার শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খানজাহান আলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এছাড়া চালনা কে সি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোংলা নৌবাহিনী স্কুল ও কলেজ, ফকিরহাটের সৈয়দমহল্লা খোডেজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং মোংলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়কে নতুন কেন্দ্র হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
তালিকার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আলিপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বাজার গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মহেশপুরের গুড়দহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
যশোর বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়ামত ইলাহী জানিয়েছেন যে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বোর্ডের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ১২টি বিশেষ পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে।
এই টিমের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কেন্দ্র সচিবদের নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় করবেন। তাদের আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে সব কেন্দ্রের প্রাক পরিদর্শন শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ মনে করছে যে এই পরিবর্তনের ফলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখা আগের চেয়ে অনেক সহজ হবে।
পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং আসন বিন্যাসের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে যাতে কোনো এলাকাতেই পরীক্ষার্থীদের সমস্যা সৃষ্টি না হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় পরীক্ষা চলাকালীন যেকোনো অনিয়ম রুখতে বোর্ড প্রশাসন এবার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকেও পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন