সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা

শিক্ষামন্ত্রী

আসন্ন ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি পরীক্ষকদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এসএসসির খাতা মূল্যায়নের সময় ব্যক্তিগত আবেগ বা অনিয়মের কোনো স্থান নেই। 

খাতায় যা লেখা থাকবে, তার সঠিক উত্তর যাচাই করেই যথাযথ নম্বর প্রদান করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া বা যোগ্যতার চেয়ে কম নম্বর দেওয়ার মতো ঘটনা সহ্য করা হবে না। আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে মন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি সভাতে উপস্থিত শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, শিক্ষকদের নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়ে তিনি আগেও সোচ্চার ছিলেন এবং এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটবে না। 

শিক্ষকরা যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের মুখে না পড়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করবে সরকার। কেন্দ্র সচিবদের প্রতি তাঁর আহ্বান ছিল, পরীক্ষার হল বা উত্তরপত্র মূল্যায়ন কেন্দ্রে শিক্ষকদের জন্য নির্ভয়ে কাজ করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে যাতে পরীক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকে। 

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা আরও বেশি জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে যাতে ক্যামেরার নজরদারি ব্যাহত না হয়, সেজন্য প্রতিটি কেন্দ্রে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আইপিএস ব্যবহারের পরামর্শ দেন মন্ত্রী। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালেও পরীক্ষার্থীদের মনে যেন কোনো ধরনের অহেতুক ভীতি বা আতঙ্কের সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও সতর্ক নজর রাখার কথা বলেন তিনি।

নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে মন্ত্রীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাবলিক পরীক্ষায় নকল প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। এবারও সেই একই ধরনের কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন পরীক্ষা উপহার দেওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। বিশেষ করে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে তিনি একটি জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং জানান যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে।

একটি মেধাবী ও দক্ষ জাতি গঠনে পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি কেবল শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নয়, বরং স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীদেরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন। সভায় চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং মন্ত্রীর নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নে তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।