শহিদুল ইসলাম
এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:১২ পিএম
মেধাবীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ -ছবি-দিনাজপুর টিভি
নীলফামারীর জলঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘কিশোরকন্ঠ মেধাবৃত্তি ২০২৫’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জলঢাকা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির মোট ২২৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে মেধা স্মারক, সনদ ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
মেধার এই মূল্যায়ন উৎসবে নীলফামারীর শিক্ষা অঙ্গনে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশন নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ট্যালেন্টপুলে চারজন শিক্ষার্থী বিশেষ সাফল্য অর্জন করে।
এই চার কৃতি শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি ল্যাপটপ প্রদান করা হয়। কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশন নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি।
তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে বলেন, মেধাবীদের মূল্যায়ন করা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের দায়িত্ব। নীলফামারীর এই কৃতি সন্তানদের উৎসাহিত করার এই ধারা অব্যাহত রাখা জরুরি। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নৈতিকতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে মো. রেজাউল করিম বলেন, কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশন প্রতিটি শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই পুরস্কার প্রাপ্ত ২২৬ জন শিক্ষার্থীই আগামী দিনে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হবে।
প্রধান বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক গুণসম্পন্ন মানুষ হওয়া আজ সময়ের দাবি। এই মেধা স্মারক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনে আত্মবিশ্বাস যোগাবে।বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোকলেছুর রহমান, আহমদ রায়হান, জাকির হোসেন রঞ্জু এবং সাব্বির রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা প্রযুক্তির যুগে ল্যাপটপের মতো পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষায় উৎসাহিত করার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। ল্যাপটপ জয়ী এক শিক্ষার্থী তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানায়, ল্যাপটপ জেতাটা তার কাছে স্বপ্নের মতো এবং এই অর্জন পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও এমন সময়োপযোগী মূল্যায়নের প্রশংসা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিজয়ীদের মাঝে নগদ অর্থ, শিক্ষা সামগ্রী ও সনদ বিতরণ শেষে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।