সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,

এসএসসিতে ফিরছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’, কী এই ব্যবস্থা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

এসএসসিতে ফিরছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’, কী এই ব্যবস্থা

পরীক্ষার হলে নতুন নিয়ম

আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শিক্ষা বোর্ডগুলো আবারও ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা নীরব বহিষ্কার ব্যবস্থা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনাসংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬ থেকে এই বিশেষ নির্দেশনার কথা জানা গেছে। 

মূলত পরীক্ষার হলে অসাধু উপায় অবলম্বন বন্ধ এবং সাধারণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এই পুরনো পদ্ধতিটি নতুন করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।সাইলেন্ট এক্সপেল বা নীরব বহিষ্কার বিষয়টি মূলত এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো পরীক্ষার্থীকে সরাসরি নকল করার সময় হাতেনাতে ধরা না গেলেও হলের নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 

পরীক্ষা চলাকালীন কোনো শিক্ষার্থী যদি ক্রমাগত কথা বলে, বারবার এদিক-ওদিক তাকায় কিংবা অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখার চেষ্টা করে, তবে দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শক তাকে এই পদ্ধতিতে বহিষ্কার করতে পারেন। 

এই ব্যবস্থার বিশেষত্ব হলো, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেন না যে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি পরীক্ষা চালিয়ে যেতে পারলেও পরবর্তীতে তার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় সেটি বাতিল বলে গণ্য হয়।নতুন নীতিমালায় এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থীকে সাইলেন্ট এক্সপেল করা হলে কক্ষ পরিদর্শককে তার সৃজনশীল উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার প্রথম অংশ না ছিঁড়ে একটি গোপন প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। 

এরপর উত্তরপত্রটি আলাদা প্যাকেটে ভরে তার ওপরে লাল কালি দিয়ে বড় অক্ষরে ‘রিপোর্টেড’ লিখে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শককে এই বহিষ্কারের কারণ প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যাতে বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারে।

তবে নীরব বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি মানবিক দিকও রাখা হয়েছে। তারা পরবর্তী বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবেন। যদিও তাদের পরবর্তী সব পরীক্ষার উত্তরপত্রও আলাদা প্যাকেটে এবং একই নিয়ম মেনে বোর্ডে পাঠাতে হবে। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এবারের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। পরীক্ষার হলের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় এই পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা। পরীক্ষার্থীদের অযথা হলের ভেতরে শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।