সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,

রাবিতে সি ইউনিটের ফলে ত্রুটি শোধরানোর দাবি শিক্ষার্থীদের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

রাবিতে সি ইউনিটের ফলে ত্রুটি শোধরানোর দাবি শিক্ষার্থীদের

ভর্তি ফলে বড় ধরনের ত্রুটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণির ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষায় নির্ধারিত পাস নম্বর অর্জনের পরেও কয়েকশ শিক্ষার্থীকে ‘ফেল’ দেখানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী ও তাদের অভিভাবকরা দাবি করেছেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় সঠিক মেধা তালিকা প্রকাশের দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ফলাফলে ভুল হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের শেষদিকে প্রকাশিত শর্ত অনুযায়ী বিজ্ঞান ও অবিজ্ঞান উভয় শাখার জন্যই পাস নম্বর ৪০ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বিজ্ঞান শাখার ক্ষেত্রে আবশ্যিক অংশে ২৫ এবং ঐচ্ছিক অংশে ১০ নম্বর পাওয়ার আলাদা শর্ত ছিল। 

কিন্তু অবিজ্ঞান বা মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কোনো বিশেষ শর্ত দেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, অবিজ্ঞান শাখার ফলাফলে ভুলবশত বিজ্ঞান শাখার কঠোর শর্তগুলো প্রয়োগ করায় কয়েকশ শিক্ষার্থী পাস করেও ফেলের তালিকায় চলে গেছেন। এটি প্রশাসনের চরম দায়িত্বহীনতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

তদন্তে দেখা গেছে, এই ত্রুটির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন বিশেষ কোটাধারী শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা এবং খেলোয়াড় কোটায় ভর্তির সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীর অভাবে এসব আসন পূরণ হয় না। ফলে যারা পাস নম্বর পান, তাদের ভর্তির সুযোগ প্রায় নিশ্চিত থাকে। কিন্তু এবারের ভুলে কয়েক ডজন কোটাধারী প্রার্থী ফেলের তালিকায় পড়ে যাওয়ায় তারা পরবর্তী ধাপের ইন্টারভিউ বা ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

হুমায়রা আক্তার লিজা নামের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ৫৪ দশমিক ৫০ নম্বর পেলেও তাকে ফেল দেখানো হয়েছে। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপ করে বলেন যে, তার পাস হয়েছে জানলে তিনি হয়তো শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এতদিনে ভর্তির সুযোগ পেতেন। এখন তিনি কোথায় কার কাছে প্রতিকার চাইবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। একইভাবে শেখ সাইমুজ্জামান নামের এক খেলোয়াড় কোটাধারী শিক্ষার্থী ৪৬ দশমিক ৫০ নম্বর পেলেও তাকেও অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। 

তার বাবা আকরামুজ্জামান দাবি করেন যে, তার ছেলে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও ভুল ফলাফলের কারণে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে তাকে ডাকা হয়নি।বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মো. ছাইফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে জানান যে, তাদের কাছেও অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। আইসিটি সেন্টার কেবল তথ্য প্রক্রিয়া করে, তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট ইউনিটের। 

তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাস করেও ফেল দেখানো শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তিনি।সার্বিক উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ‘সি’ ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক গোলাম মর্তুজা বলেন যে, বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। 

দ্রুত একটি জরুরি সভা ডাকা হয়েছে এবং সেখানে সব তথ্য যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান জানিয়েছেন, আগামী রোববার অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল এ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে এবং যথাযথ সমাধান বের করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।