এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার রুটিন ও প্রশ্নপত্র বণ্টন পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিশেষ সংবাদের বিষয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক ও বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য অনলাইন পোর্টালে দাবি করা হচ্ছে যে, পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে না সেদিন কোন বিষয়ে পরীক্ষা হবে।
মন্ত্রণালয় এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক গুজব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। শুক্রবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক তথ্য বিবরণীর মাধ্যমে এই বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়।
প্রচারিত ওই গুজবে বলা হয়েছিল, পরীক্ষায় নকল বা জালিয়াতি প্রতিরোধ করার জন্য শিক্ষা প্রশাসন এবার আগে থেকে কোনো পরীক্ষার সময়সূচি বা রুটিন প্রকাশ করবে না। শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষার হলে প্রবেশ করবে, ঠিক তখনই তাদের জানানো হবে ওইদিন কোন বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এই আজব সংবাদটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়লে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, এ ধরনের কোনো উদ্ভট সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেনি এবং এসএসসির মতো বড় পাবলিক পরীক্ষা আগের চিরাচরিত নিয়মেই সম্পন্ন হবে।মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি বছরের মতো এবারও একটি সুনির্দিষ্ট ও পূর্বনির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার্থীরা যথাযথ সময় হাতে রেখেই জানতে পারবেন তাদের কোন দিন কোন বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে। মূলত পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার লক্ষ্যেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়। এই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অসমর্থিত খবরে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, এসএসসি পরীক্ষার রুটিন বা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে হলে অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কিংবা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ডের নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসরণ করতে হবে। গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেছে, সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন