রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাবিপ্রবির কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

মোঃ রাহাত হোসেন

মে ১৩, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

হাবিপ্রবির কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত “Statistical Analysis, Scientific Paper and Thesis Writing” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালাকে ঘিরে বঞ্চনা, খাবারের নিম্নমান এবং প্রক্সি অংশগ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (আইআরটি) অডিটোরিয়াম-২ এ আটটি অনুষদের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। তবে শুরু থেকেই এই আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, মাস্টার্সে অধ্যয়নরত হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগসহ কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকা হয়নি। 

পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের সুপারিশে কয়েকজন অংশ নিতে পেরেছেন। ২০ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, “অধিকাংশ শিক্ষার্থীই যদি সুযোগ না পায়, তবে গুটিকয়েক শিক্ষার্থী নিয়ে এমন আয়োজনের সার্থকতা কোথায়?”

প্রশিক্ষণের খাবারের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কৃষি অনুষদের ১৯ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, “বরাদ্দের তুলনায় খাবারের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের একটি প্রোগ্রাম থেকে আমরা আরও ভালো কিছু আশা করেছিলাম।”এদিকে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ‘প্রক্সি’ অংশগ্রহণ নিয়ে। ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের এক শিক্ষার্থী স্বীকার করেছেন যে, তিনি মূল শিক্ষার্থীর হয়ে প্রক্সি দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, “যার ট্রেনিং সে ক্যাম্পাসে নেই। ট্রেনিং করলে ব্যাগ ও খাবার পাওয়া যাবে, তাই আমাকে পাঠিয়েছে। আমি শুধু খাবারের লোভে এসেছি, পরে ব্যাগটি বন্ধুকে দিয়ে দেব।

প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, সেশনের উপস্থাপনা ও রিসোর্স পারসনদের মান আরও উন্নত হওয়া প্রয়োজন ছিল। এ ছাড়া প্রশিক্ষণের কোনো স্বীকৃত সনদ না থাকায় এর গুরুত্ব নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।সার্টিফিকেট না দেওয়া প্রসঙ্গে আইআরটির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীরা নাম ও আইডি নম্বর ভুল লেখায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তথ্য সঠিক হলে এবং ফান্ড থাকা সাপেক্ষে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।” তবে শিক্ষার্থীরা এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শিক্ষার্থীদের বাদ পড়ার বিষয়ে ড. আলমগীর হোসেন আরও বলেন, “ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যানরা যেভাবে তালিকা পাঠিয়েছেন, আমরা সেভাবেই নির্বাচন করেছি। কেউ বাদ পড়লে সে বিষয়ে চেয়ারম্যানরাই ভালো বলতে পারবেন।”এ বিষয়ে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, “অনেক বিভাগের নাম বাদ পড়েছিল। আমি পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিলাম। সম্ভবত চেয়ারম্যানরা সময়মতো নাম পাঠাননি।”

প্রক্সির অভিযোগের বিষয়ে জানতে আইআরটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ব্যস্ততা’র অজুহাতে ফোন কেটে দেন। হাবিপ্রবির মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।