মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রীসংস্থার কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ১৫, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রীসংস্থার কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে ঐতিহাসিক কুরআন দিবস উপলক্ষে ‘লাওহে মাহফুজের নূর’ শীর্ষক ক্বারীয়ানা তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে নয়টায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এই আয়োজনের শুভ সূচনা করে। অনুষ্ঠানে কুরআন দিবসকে কেন্দ্র করে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। 

কুরআন পড়ার অধিকার আদায়ে তাদের সেই ত্যাগকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তালিমুল কুরআন ফাউন্ডেশনের উস্তাযা প্যানেলের সদস্য মান্জুমান আরা মিন্জু, মাহমুদা শিকদার মুন্নি এবং সাবিনা ইয়াসমিন ইতি। প্রতিযোগীদের সুমধুর কণ্ঠে তিলাওয়াত শোনার পর তারা ব্যক্তিগত পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা ও উচ্চারণ শৈলী মূল্যায়ণ করেন।

বিচারকদের নসীহতে উঠে আসে যে, কুরআনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমেই কুরআনের প্রকৃত হক আদায় করা সম্ভব। তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার মূল পর্বের পর একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে উপস্থিত ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল।পুরস্কার বিতরণী পর্বে প্রথম তিন বিজয়ী এবং চতুর্থ থেকে দশম স্থান অধিকারীদের হাতে অর্থসহ বিশেষ উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৩ হাজার এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ২ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া বিজয়ী প্রত্যেককে সম্মাননা স্যাশ এবং অর্থসহ পবিত্র কুরআন উপহার দেওয়া হয়েছে। 

আয়োজকরা জানিয়েছেন, কুরআন দিবস কেবল তিলাওয়াতের জন্য নয়, বরং এই শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়নের জন্য নাযিল হয়েছে। নিয়মিত তিলাওয়াতের মাধ্যমে ছাত্রীদের মাঝে নৈতিক গুণাবলি বিকশিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।কুরআনের আলো সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিয়ে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। 

ছাত্রীসংস্থার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ জানান, কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় ঈমানদার জনতার আত্মত্যাগ বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় থাকার প্রেরণা দেয়। পুরস্কার বিতরণের সময় বিজয়ীদের উচ্ছ্বাস এবং উপস্থিত সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। দুপুরের আগে দোয়ার মাধ্যমে এই মনোরম অনুষ্ঠানের পর্দা নামে।