সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

খুবির অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৮, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

খুবির অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এক ছাত্রী এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বুধবার বিকেলে এই অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সাত সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে।

কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক মোছা. তাসলিমা খাতুন তদন্ত শুরু হওয়ার বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত করেছেন।অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতোমধ্যে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগী সহপাঠীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো আপত্তিকর বার্তার প্রমাণপত্রসহ নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। 

অভিযোগে ভুক্তভোগী ছাত্রী উল্লেখ করেন যে শুরুতে ওই শিক্ষক তাঁর সঙ্গে ভালো আচরণ করলেও ধীরে ধীরে বিভিন্ন মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। নথিপত্রে দেখা যায় উক্ত শিক্ষক ছাত্রীকে নানাভাবে উত্যক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন আপত্তিকর বাক্য পাঠিয়েছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান যে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে প্রথমে ভয় পেলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশায় তিনি সামনে এসেছেন।

একই ডিসিপ্লিনের আরেকজন ছাত্রী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতেও মৌখিক ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান প্রায় এক যুগ আগে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এতটা জনপ্রিয় ছিল না, তখনও ক্লাসের সবার সামনে কিংবা গভীর রাতে ফোন ও মেসেজে ছাত্রীদের আপত্তিকর প্রশ্ন করা হতো। এ ছাড়া বর্তমান ঘটনাটি সামনে আসার পর আরও দুই জন ভুক্তভোগী ছাত্রী একই ধরনের হেনস্তার কথা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন। ওই শিক্ষকের অনৈতিক অন্যায্য কথায় সায় না দিলে শিক্ষার্থীরা তাঁর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হতো বলে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা দাবি করেন।

অন্য দিকে অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যাওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও সেটি  দুঃখিত, সেটি এখনো উদ্ধার হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খাঁন জানান ডিনদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে অভিযুক্ত শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ড. মো. ইয়াসিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।