জুন ২২, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলতি জুন মাসের শেষ দিকেই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করার বড় ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। দেশজুড়ে অংশ নেওয়া প্রায় সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস লাইভ সার্ভারে ইতিমধ্যেই ফল দেখার বিশেষ লিংক উন্মুক্ত করা হয়েছে।ফলাফল প্রস্তুতের মূল কার্যক্রম এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিস্টেম অ্যানালিস্ট দিলীপ কুমার সরকার জানান, বৃত্তির রেজাল্ট প্রায় প্রস্তুত হয়ে গেছে এবং এখন শুধু সামান্য কারিগরি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ বাকি আছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এই ফল আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য প্রশাসন বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ এস এম সিরাজুদ্দোহা জানান, তথ্য বিভাগ থেকে ফলাফল হাতে পাওয়ার পর একটি জরুরি সভার মাধ্যমে তারিখ নির্ধারণ করে এক দিনের মধ্যেই তা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
চলতি বছরের এই বৃত্তি পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে যার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ও বৃত্তি বণ্টন নীতিমালা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক জানিয়েছেন যে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ বছর দুই ক্যাটাগরিতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি প্রদান করা হবে।
এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বা মেধাবৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী এবং সাধারণ বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ জন। মেধাবৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২৭ হাজার ৫০০টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৫ হাজার ৫০০টি কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪১ হাজার ২৫০টি এবং বেসরকারি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ হাজার ২৫০টি বৃত্তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী উভয় ক্যাটাগরিতেই ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীর জন্য কঠোরভাবে কোটা সংরক্ষিত থাকবে।
ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানাভিত্তিক মেধাক্রম এবং সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে ইউনিয়ন বা ওয়ানর্ডভিত্তিক মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীবরা এককালীন ২২৫ টাকা এবং প্রতি মাসে ৩০০ টাকা করে আর্থিক সুবিধা পাবে এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা এককালীন ২২৫ টাকা পাওয়ার পাশাপাশি মাসিক ২২৫ টাকা করে নিয়মিত ভাতা পাবে।এর আগে দেশের ৬১টি জেলায় গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের মাধ্যমে এই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাসহ অন্যান্য সব অঞ্চলের পরীক্ষা গত ২০ এপ্রিল সম্পূর্ণ শেষ হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন