জুন ২৯, ২০২৬, ১১:০২ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীর মাঝে ‘শহীদ ড. শামসুজ্জোহা স্কলারশিপ’ বা বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। গত ২২ জুন সোমবার ক্যাম্পাসের ডিন কমপ্লেক্সে এক আবেগঘন পরিবেশে এই শিক্ষাবৃত্তি ও সম্মাননা সার্টিফিকেট আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে এই প্রশংসনীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
নির্বাচিত প্রতিজন কৃতি শিক্ষার্থীকে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং একটি করে সম্মাননা কৃতিপত্র প্রদান করা হয়।হঠাৎ এই বিশেষ আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের ঝিলিক লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানে অনলাইন বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রবাসের ওই সংগঠনের সভাপতি ফতেনূর আলম।
তিনি দূর প্রবাস থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই মহৎ কাজের সূচনা করতে পেরে সব প্রবাসী রাবিয়ান অত্যন্ত আনন্দিত। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে এই কল্যাণমুখী তহবিল গঠনে যেসকল প্রবাসীরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ক্যাম্পাসের মেধাগুলো যেন কোনো অর্থাভাবের কারণে অকালে ঝরে না পড়ে, সে লক্ষ্যে আগামীতেও ভালোবাসার হাত প্রসারিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুস্থানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. পাপিয়া সুলতানা। অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান তাঁর বক্তব্যে প্রবাসীদের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসে। রাজশাহী অঞ্চলে পার্টটাইম চাকরি বা টিউশনি পাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকায় অনেকেই তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ভোগেন। প্রবাসীরা যেভাবে আজ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই অনন্য উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মনে বড় অর্থনৈতিক স্বস্তি দেবে বলে তিনি প্রগাঢ় আশা প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি এ কে এম মনিরুল হক রাহুল এবং বর্তমান সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এম নূরুজ্জামান বাবু। এছাড়া পর্দার আড়ালে থেকে এই মহৎ আয়োজনটি সফল করার পেছনে অক্ল্যান্ড পরিশ্রম করায় মো. আসাদুজ্জামান, অ্যাডভোকেট সোনিয়া সুলতানা এবং এইচ এম ইস্রাফিল-এর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়। প্রবাসে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আগামী দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ও অর্থাভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এভাবে এগিয়ে আসবেন—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন