জুলাই ২৮, ২০২৬, ০১:২১ পিএম
জুলাই ফিরে এলেই ফিরে আসে সেই উত্তাল দিনগুলোর অবিস্মরণীয় স্মৃতি। ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে প্রতিবাদী স্লোগান, মিছিলের গর্জন, হল-আবাসিক শিক্ষার্থীদের রাত জাগা, পুলিশের বাধা আর রাজপথে শিক্ষার্থীদের দৃঢ় অবস্থান—সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব ও পরিবর্তনের সময়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে সাহসী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
ক্যাম্পাসের পরিচিত প্রাঙ্গণগুলো হয়ে ওঠে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও সংহতির প্রধান কেন্দ্র।তরুণ প্রজন্মের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম জিসান জানান, আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।ঢাবি থেকে শুরু করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আহতদের চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা এবং রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।
অন্যদিকে, কক্সবাজার সরকারি কলেজের শাহাব উদ্দিন চৌধুরী মনে করেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ তখনই পূর্ণতা পাবে যখন রাষ্ট্র সর্বস্তরের নাগরিকের অধিকার ও সম্মান বৈষম্যহীনভাবে সুরক্ষিত করতে পারবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইয়েদা হাফছা উল্লেখ করেন যে, ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও ছাত্রীরা হলের তালা ভেঙে আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিজেদের সাহসী ভূমিকা প্রমাণ করেছেন।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম শিহাব বলেন, জুলাইয়ের স্বপ্ন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ করে তোলা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাউদ্দিন আম্মার জানান, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা দমে যাননি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে আন্দোলনকে বেগবান করেছিলেন।
কক্সবাজার সিটি কলেজের সাগর উল ইসলাম ও মো. আনিছুর রহমান উভয়েই উল্লেখ করেন যে, জুলাই কেবল উদ্যাপনের বিষয় নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার।আন্দোলনের এই দীক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক চিরন্তন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন