রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঢাবির ৬ অধ্যাপককে অব্যাহতি,১ জনকে বহিষ্কার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

ঢাবির ৬ অধ্যাপককে অব্যাহতি,১ জনকে বহিষ্কার

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্তসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ গৃহীত হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিন্ডিকেট সভায় শ্রেণিকক্ষ ও এর বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

এদিকে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অফিস শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী কর্মকাণ্ড, সরকারবিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের দায়িত্বসহ সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগে ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামকেও সব দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়। এ ছাড়া ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে চৌর্যবৃত্তি ও অনিয়মের অভিযোগে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সিন্ডিকেট সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০োয়াস সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব নিয়োগ পর্যালোচনা করা হবে। এ লক্ষ্যে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি হেকেপ প্রকল্পের গবেষণা তহবিলের ব্যবহার খতিয়ে দেখতে এবং ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’-এর দেওয়া তালিকা যাচাই করতে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন মলচত্বরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।