অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের অচলায়তন ভেঙে অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল ছাত্র সংসদ এবং সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন ২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফল আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
এই গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি আইনি ভিত্তি পেল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পথটি উন্মুক্ত হলো। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীবের নিকট নির্বাচনের ফলাফলের এই গেজেট হস্তান্তর করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর এফ নজরুল ইসলাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, কারণ এটি ক্যাম্পাসের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ তৈরি করল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন সফলভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আজ চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেটটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করে। উপাচার্যের কার্যালয়ে এই গেজেট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মতিয়ার রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ইফতিখারুল আলম মাসউদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এই গেজেট গ্রহণকে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
রাকসু নির্বাচনের এই গেজেট প্রকাশ নিছক একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ বঞ্চনা এবং ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস। উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৯-৯০ সালে। এরপর কেটে গেছে প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বারবার নির্বাচনের দাবি তুললেও রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠনের দখলদারিত্ব, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার ছাত্র-प्रतिनिধিত্বের যে গণতান্ত্রিক অধিকার, তা থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত ছিল। শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোতে আবাসন সংকট, খাবারের মান, গ্রন্থাগারের সমস্যা এবং একাডেমিক অধিকার সংক্রান্ত নানা বিষয়ে কথা বলার কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিল না। এই শূন্যতার সুযোগে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছিল দখলদারিত্বের অপসংস্কৃতি।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন