সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
হিন্দি চলচ্চিত্রের অত্যন্ত পরিচিত মুখ, অভিজ্ঞ চরিত্রাভিনেতা ও প্রবীণ কৌতুকশিল্পী মুশতাক খান আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারের সাথে লড়াই করে ৫৬ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজের সভাপতি বি এন তিওয়ারি গণমাধ্যমের কাছে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
অভিনেতার ব্যবসায়িক অংশীদার শিবম জানান, কয়েক বছর আগে মুশতাক খানের শরীরে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার পর তিনি একপর্যায়ে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেও এসেছিলেন। তবে মাত্র আট দিন আগে আকস্মিকভাবে এই মরণব্যাধি আবারও ফিরে আসে। শারীরিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তত দিনে রোগটি একদম শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।
শুক্রবার তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। নায়ক হিসেবে কেন্দ্রীয় চরিত্রে কখনোই পর্দায় আবির্ভূত হননি মুশতাক খান। বরং চার দশকের ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ সিনেমায় তাঁর ভাগে জুটেছিল ছোট ছোট পার্শ্বচরিত্র। কিন্তু অসাধারণ স্বাভাবিক অভিনয়, সংলাপ প্রক্ষেপণের নিজস্ব কায়দা আর নিখুঁত কৌতুকবোধ দিয়ে বড় বড় তারকাখচিত সিনেমার ভিড়েও তিনি দর্শকের মনে গভীর দাগ কেটেছেন। কখনো মাত্র কয়েক মিনিটের ক্ষণিক উপস্থিতি, কখনো একটিমাত্র সংলাপেই পুরো দৃশ্য নিজের করে নেওয়ার বিরল দক্ষতা ছিল তাঁর।
১৯৮০ সালে `আলবার্ট পিন্টো কো গুসসা কিঁউ আতা হ্যায়` সিনেমার মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় তাঁর অভিনয়যাত্রার সূচনা হয়। এরপর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হিন্দি চলচ্চিত্রে সমানতালে কাজ করে গেছেন তিনি। তাঁর অভিনীত কালজয়ী সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে আশিকি, দিল হ্যায় কি মানতা নেহি, হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে, রাজা, হেরা ফেরি, গদর এক প্রেম কথা, জোড়ি নম্বর ১, মুঝসে শাদি করোগি, ওয়েলকাম, ওয়ান্টেড এবং ও মাই গড।
সময়ের বিবর্তনে সিনেমার ধরন ও দর্শকের প্রজন্ম বদলালেও অভিনয়ে কখনোই বিরতি দেননি মুশতাক খান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি স্ত্রী, বাধাই দো, গদর ২ ও স্ত্রী ২-এর মতো ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান সমাদৃত হন। জীবনের শেষভাগে তাঁর যুক্ত হওয়া কাজের তালিকায় ছিল বনবাস, বেবি জন, ধুম ধাম এবং জাত। তবে মুশতাক খানের অভিনয় জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় কাজ হিসেবে চিরকাল আলোচনায় থাকবে ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া আনিস বাজমি পরিচালিত ওয়েলকাম সিনেমাটি।
অক্ষয় কুমার, নানা পাটেকর, অনিল কাপুর ও ক্যাটরিনা কাইফের মতো শীর্ষ তারকাদের উপস্থিতির মাঝেও একটি সংক্ষিপ্ত দৃশ্যে তিনি বাজিমাত করেছিলেন। ছবিতে নানা পাটেকরের অভিনীত ডন উদয় শেঠির সহযোগী হিসেবে দেখা যায় তাঁকে। সেখানে নিজের নকল পায়ের কাল্পনিক গল্প বলতে গিয়ে তিনি `মেরি এক টাং নকলি হ্যায়` সংলাপটি উচ্চারণ করেছিলেন। তাঁর অসামান্য বাচনভঙ্গি এবং মুখের কৌতুকময় অভিব্যক্তি দৃশ্যটিকে একটি আইকনিক পর্যায়ে নিয়ে যায়, যা পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় মিম কনটেন্ট হিসেবে দুই দশক ধরে তরুণদের মুখে মুখে ঘুরছে।
বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টেলিভিশন ধারাবাহিক এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তিনি। প্রধান চরিত্রে না থেকেও কীভাবে চরিত্রাভিনয়ের গুণে দর্শকের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকা যায়, মুশতাক খান ছিলেন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন