অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ০৪:১৯ পিএম
জীবনে বহুবার হোঁচট খেয়েছেন, কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু কখনোই থেমে যাননি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা হতাশা কাটিয়ে তিনি ছুটেছেন দুরন্ত গতিতে। অন্ধকারের সেই সময়গুলো পেরিয়ে এসে আজ তিনি যেন এক আলোর প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। দেখতে দেখতে জীবনের ৪১টি বসন্ত পেরিয়ে আজ (২৮ অক্টোবর) ৪২-এ পা রাখলেন এই অভিনেত্রী।
নিজের জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন বাঁধন। সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন নিজের একটি সাদাকালো ছবি। সেই পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন জীবনের নানা চড়াই-উতরাই, বিষণ্ণতা এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।বাঁধন লিখেছেন, ‘আজ আমার ৪২তম জন্মদিন। কী দারুণই না ছিল এই যাত্রা! ৪০ পার করার পর জীবন যেন একেবারে বদলে গেল।’
তিনি জানান, একটি বেদনাদায়ক সম্পর্কের বিচ্ছেদ এবং দেশের জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী অস্থিরতা—এই দুটি ঘটনা তাকে গভীর বিষণ্ণতায় ডুবিয়ে দিয়েছিল। যদিও তিনি আগে থেকেই মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন, কিন্তু এই ঘটনাগুলো তার অবস্থাকে ভয়ংকরভাবে বাড়িয়ে দেয়।
সেই কঠিন সময়ের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, ‘ওই সময় ১৭ কেজি ওজন বেড়ে গেল, আর ভাবলাম—এটাই বোধহয় শেষ, জীবন এখানেই থেমে গেল। নিজের শরীরের ভেতরেই আমি বন্দি হয়ে গিয়েছিলাম। শরীর ব্যথা করত, হাঁটুতে যন্ত্রণা, পিঠে টান, আর মনে ঘন কুয়াশার মতো একটানা দুঃখের মেঘ। অনেক দিন শুধু ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকতাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা।’

সেই দিনগুলোকে 'অন্ধকার' হিসেবে উল্লেখ করলেও তিনি লেখেন, ‘কিন্তু না, পৃথিবী শেষ হয়ে যায়নি। আমি বেঁচে গেছি। আমি সবসময়ই বেঁচে যাই।’ এরপরই তার জীবনে আসে এক নতুন মোড়। বাঁধন জানান, ‘একদিন একটা ফোন এলো—একজন পরিচালকের কাছ থেকে, যার সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন আমি অনেকদিন ধরে দেখতাম। সেই ফোন কলটাই বদলে দিল সবকিছু। আবার জেগে উঠল আমার ভেতরের আগুন, উদ্যম, বাঁচার ইচ্ছা।’
বর্তমানে নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় কাটাচ্ছেন জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘এখন আমি প্রতিদিন ব্যায়াম করি। আবার নিজেকে জীবিত মনে হয়। আর সত্যি বলছি—জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় এখনই কাটাচ্ছি। কারণ আমরা মানুষ, সুপারহিরো নই। আমরা ভাঙি, হোঁচট খাই, কষ্ট পাই, হারাই, আবার জোড়া লাগি, উঠি আর বেঁচে থাকি।’ ভক্তদের কাছে শুভকামনা চেয়ে তিনি লেখেন, ‘আমার জন্য শুভকামনা রাখো—কারণ আমার চল্লিশের দশকটাই এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে দারুণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে।’
পোস্টের শেষে বাঁধন লেখেন, ‘আমি এখন আরো পরিণত, শান্ত, সংযত। আর সবচেয়ে বড় কথা—আমি নিজেকে গভীরভাবে ভালোবাসি।’উল্লেখ্য, বছর কয়েক আগে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমা দিয়ে বাঁধনের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটে। ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস তৈরি করে। এরপর সৃজিত মুখার্জীর ওয়েব সিরিজ ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ এবং বলিউড নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজের নেটফ্লিক্স সিনেমা ‘খুফিয়া’-তে তার অভিনয় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন