অক্টোবর ২০, ২০২৫, ০৬:২৪ পিএম
যে ক্যাম্পাসে তার মেতে থাকার কথা ছিল বন্ধুদের সঙ্গে, যেখান থেকে সমাবর্তনের টুপি মাথায় পরে বের হওয়ার কথা ছিল, সেই প্রিয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণেই আজ শুয়ে ছিলেন তিনি সাদা কাফনে। বলছিলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হুসাইনের কথা, যিনি গতকাল রোববার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন।
সোমবার (২০ অক্টোবর) বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ চত্বরে জুবায়েদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই জানাজা যেন কেবল একটি নামাজ ছিল না, এটি ছিল একরাশ হাহাকার, সহপাঠীদের কান্না আর শিক্ষকদের বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।জানাজায় অংশ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন জুবায়েদের বাবা মো. মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, “আমি চেয়েছিলাম আমার ছেলে লেখাপড়া করে বড় মানুষ হবে।
আজ সে লাশ হয়ে আছে। আমি সবার কাছে আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।”শিক্ষার্থীরাও তাদের প্রিয় সহপাঠী ও নেতাকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান। জানাজায় অংশ নিয়ে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন যে কথাগুলো বলেন, তা হয়তো উপস্থিত প্রত্যেক শিক্ষকেরই মনের কথা।
তিনি বলেন, “আমার শিক্ষার্থী জুবায়েদ আজ আমাদের সামনে এভাবে শুয়ে আছে, এটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। সমাবর্তনে তার মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আজ তাকে জানাজায় দেখছি।”বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম জুবায়েদকে স্মরণ করে বলেন, “জুবায়েদ খুবই ভালো ছেলে ছিল। সে মাঝে মাঝে আমার কাছে আসতো, খুব বিনয়ী আচরণ করতো। এমন একটি ছেলের শত্রু থাকতে পারে, এটা আমাদের কল্পনার বাইরে।”
জানাজায় উপস্থিত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন নাসির এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিকভাবে না দেখে, একজন শিক্ষার্থীর ওপর বর্বর হামলা হিসেবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।চোখেমুখে শোকের ছাপ আর বুকে একরাশ কষ্ট নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহপাঠীরা তাদের প্রিয় জুবায়েদকে শেষ বিদায় জানান।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন