এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
রাজশাহী অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে এবং অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন এবং নগরীর বেসরকারি সিডিএম হাসপাতালে আরও তিন শিশু মারা গেছে। রামেক হাসপাতালে চলতি মৌসুমে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সেখানে আরও ১২৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস রোববার দুপুরে জানিয়েছেন যে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দুজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে নতুন করে আরও ১৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, এই সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৬ জন শিশু। হাসপাতালটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ৩৯১ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে সেখানে ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।অন্যদিকে নগরীর বেসরকারি সিডিএম হাসপাতালেও পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।
হাসপাতালটির জেনারেল ম্যানেজার তারেক আজিজ জানান, শনিবার দিবাগত রাতে দুজন এবং রোববার সকালে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এই তিন শিশুর মধ্যে দুজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের এবং একজন নাটোর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে আসা রোগীদের এমন মৃত্যুতে পুরো রাজশাহী বিভাগে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
হামের এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে রোববার থেকে রাজশাহী বিভাগের পাঁচ জেলায় তিন সপ্তাহব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই কর্মসূচির আওতায় মোট ৫৬ হাজার ৬০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে ২৭টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে যেখানে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ শিশুকে প্রতিষেধক দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম জানান যে, ৫ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় টিকা প্রদান করা হবে। যেসব শিশু অন্তত ২৮ দিন আগে নিয়মিত টিকা নিয়েছে, তারাও বাড়তি সুরক্ষার জন্য এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় পুনরায় টিকা নিতে পারবে। আগামী তিন সপ্তাহ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই ব্যাপক টিকাদানের মাধ্যমে সংক্রমণের চেইন ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার অভিভাবকদের দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন