এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১১:০৮ এএম
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বয়ে চলা তীব্র তাপপ্রবাহে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। এই অসহনীয় গরমে অনেকেই মাথা ঘোরা, শারীরিক দুর্বলতা এবং বমিভাবের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। সঠিক সময়ে সতর্ক না হলে হিট এক্সহসশন থেকে প্রাণঘাতী হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থেকে যায়।
বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সাবধানতা আরও বেশি প্রয়োজন, কারণ তাদের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে।তীব্র গরমে শরীর অতিরিক্ত ঘাম ঝরানোর ফলে পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
এর ফলে রক্তচাপ হঠাৎ করে কমে যেতে পারে, যা মূলত মাথা ঘোরার প্রধান কারণ। অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তির চোখে ঝাপসা দেখা বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে জরুরি।
শরীরে লবণের ঘাটতি দেখা দিলে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত হতে থাকে, যা বড় ধরণের কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকির কারণ হতে পারে।রাস্তায় বা রোদে থাকাকালীন হঠাৎ মাথা ঘোরার অনুভূতি হলে তৎক্ষণাৎ ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা কোনো স্থানে চলে যেতে হবে। রোদ থেকে সরে গিয়ে দ্রুত বসে পড়া বা শুয়ে পড়া সবচেয়ে নিরাপদ। এই অবস্থায় ধীরে ধীরে পানি বা ওআরএস স্যালাইন পান করা উচিত। তবে একবারে অনেকটা পানি পান না করে অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে পান করা ভালো। শরীর ঠান্ডা করতে মাথা, ঘাড় এবং হাতে ভেজা কাপড়ের ব্যবহার বেশ কার্যকর। একইসাথে পরনের টাইট পোশাক ঢিলা করে দিলে শরীরে বাতাস চলাচল সহজ হয় এবং অস্বস্তি কমে।
গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে কিছু লক্ষণের দিকে কড়া নজর রাখা প্রয়োজন। হঠাৎ দুর্বলতা, মাত্রাতিরিক্ত ঘাম কিংবা ঘাম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া, তীব্র মাথাব্যথা এবং দ্রুত হৃদস্পন্দন বিপদের পূর্বাভাস হতে পারে। যদি কেউ অজ্ঞান হয়ে যান, বারবার বমি করতে থাকেন কিংবা কথাবার্তায় অসংলগ্নতা বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে এটি হিটস্ট্রোকের লক্ষণ। এমন অবস্থায় রোগীকে আর বাড়িতে না রেখে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। কারণ হিটস্ট্রোকের ফলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সুস্থ থাকতে এই সময়ে দিনের বেলা প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়াই ভালো। প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং হালকা রঙের সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা অত্যন্ত জরুরি। বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা বা টুপি ব্যবহার করার পাশাপাশি ভারী কায়িক শ্রম কমিয়ে দিলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে। এছাড়া নিয়মিত ডাব বা ফলের রস পান করলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে। মূলত ব্যক্তিগত সচেতনতা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপই পারে এই চরম আবহাওয়ায় সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন