শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গরমে পানিশূন্যতা ও লবণশূন্যতা রোধে যা খাবেন জানুন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

গরমে পানিশূন্যতা ও লবণশূন্যতা রোধে যা খাবেন জানুন

গরমে সুস্থ থাকার খাবার

দেশজুড়ে বয়ে চলা তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমন আবহাওয়া সবার জন্যই শারীরিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা এখন সবচেয়ে বেশি। প্রচণ্ড গরমে শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি হয় এবং ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে মানুষ দ্রুত জ্ঞান হারানোসহ এমনকি মৃত্যুর মুখেও ঢলে পড়তে পারে। 

পানিশূন্যতার কারণে পেশিতে টান, তীব্র ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বমি ভাব এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু এবং অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

পানিশূন্যতা ও লবণশূন্যতা প্রতিরোধে এই সময়ে এমন কিছু খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন যা শরীরে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করবে না। বরং উৎপন্ন তাপ শরীর থেকে বের করে দিয়ে পানির ভারসাম্য বজায় রাখবে। 

শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ মিলিলিটার ফলের রস পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে তরমুজ, আনারস, পেঁপে, বেল বা মাল্টার রস শরীরের পেশির কর্মক্ষমতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফলের রসের থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদানগুলো শরীরের ক্লান্তি দূর করে তাৎক্ষণিক সতেজতা ফিরিয়ে আনে।তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে টক দইয়ের লাচ্ছি অন্যতম একটি আদর্শ খাবার হিসেবে কাজ করে। এটি শুধু শরীরে পানির চাহিদাই পূরণ করে না, বরং এতে থাকা প্রোবায়োটিক ও ফাইবার শরীরের ভেতরকার তাপমাত্রা প্রশমিত করতে সাহায্য করে। 

এই পানীয়টি হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তবে পানীয় পান করার ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানির কোনো বিকল্প নেই। প্রচণ্ড গরমে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি পানি পান করা প্রয়োজন। তবে সতর্ক থাকতে হবে যেন ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি সরাসরি পান করা না হয়, কারণ এটি স্বাস্থ্যের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসেও এই সময় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। অতি মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে পাতলা ঝোলের তরকারি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। লাউ, চালকুমড়া, ঝিঙে, পটল বা চিচিঙ্গার মতো পানিজাতীয় সবজিগুলো পাতলা ঝোল করে রান্না করে খেলে শরীর আর্দ্র থাকে। প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে শিং, পুঁটি, ট্যাংরা বা পাবদার মতো ছোট মাছের পাতলা ঝোল বেশ উপকারী। এই সময়ে মাংস খাওয়ার পরিমাণ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা শ্রেয়। কারণ মাংস হজমে শরীর বেশি তাপ উৎপন্ন করে যা গরমের অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়।

শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং স্নায়ু সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ মিলিলিটার খাওয়ার স্যালাইন পান করা যেতে পারে। বিশেষ করে যারা রোদে কাজ করেন বা ঘামেন বেশি, তাদের জন্য এটি জীবনরক্ষাকারী হতে পারে। এছাড়া কচি ডাবের পানি বিভিন্ন প্রয়োজনীয় লবণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে চমৎকার কাজ করে। ডাবের পানি প্রাকৃতিকভাবে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে। সুস্থ থাকতে এই নিয়মগুলো মেনে চলা এবং রোদে সরাসরি কাজ করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।