নভেম্বর ২০, ২০২৫, ০৩:০৪ পিএম
দেশের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিন ধরনের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই তিন ধরনের ফোন হলো— ক্লোন করা, অবৈধভাবে আমদানিকৃত এবং চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হ্যান্ডসেট।
গতকাল বুধবার (১৯ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছেন।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, অবৈধ ফোনের সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর বহুবিধ অপরাধ জড়িত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
সিমের ভুল রেজিস্ট্রেশন ও জালিয়াতি।
-
অনলাইন জুয়া ও এমএলএম প্রতারণার বিস্তার।
-
মোবাইল ফাইন্যান্সিং বা এমএফএস সংক্রান্ত অপরাধ।
-
রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ও শুল্ক ফাঁকি।
-
চুরি বা ছিনতাই হওয়া ফোন উদ্ধার করতে না পারা।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে একটি মাত্র আইএমইআই (IMEI) কোড ব্যবহার করে লাখ লাখ নকল ফোন তৈরি করে বাজারে ছাড়া হচ্ছে, যা ডিজিটাল অপরাধ দমনে বড় বাধা। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিটিআরসি এবং গোয়েন্দা সংস্থার অনুরোধে এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমের মাধ্যমে এসব ফোন বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাধারণ গ্রাহকদের কী হবে? সাধারণ গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের আগে যেসব ফোন নেটওয়ার্কে সচল বা অ্যাকটিভ আছে, তার সবগুলোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, "আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম যদি নিজের ফোনে ব্যবহার করেন, তবে কোনো ঝামেলায় পড়বেন না। রেজিস্ট্রেশন, ডি-রেজিস্ট্রেশন এবং রি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নাগরিকদের জন্য আরও সহজ করতে বিটিআরসি কাজ করছে।"
এছাড়া প্রবাসীরা নিয়ম মেনে বিদেশ থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় দুটি ফোন আনতে পারবেন এবং তা সহজেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
ফোনের দাম কি কমবে? অবৈধ ফোন বন্ধ হলে বাজারে ফোনের দাম বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সরকারের এই প্রতিনিধি জানান, বৈধ পথে ফোন আমদানি এবং স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনকারীদের ফোনের দাম কমানোর জন্য মৌখিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন