রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সূর্যের বুকে বিস্ফোরণ: প্রলয়ঙ্করী সৌরঝড়ের ঝুঁকিতে বিশ্ব

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

মে ১৩, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

সূর্যের বুকে বিস্ফোরণ: প্রলয়ঙ্করী সৌরঝড়ের ঝুঁকিতে বিশ্ব

সূর্যের সক্রিয় সানস্পট থেকে নির্গত সৌর শিখা।

সূর্যের বুকে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর বিশাল এক গহ্বর তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সূর্যের সক্রিয় সানস্পট অঞ্চল ‘এআর৪৪৩৬’ থেকে এই প্রলয়ঙ্করী বিস্ফোরণটি ঘটেছে, যার ফলে নির্গত চার্জযুক্ত সৌর পদার্থ এখন পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে।

মহাকাশ আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই বিস্ফোরণের ফলে ছড়িয়ে পড়া সৌর প্লাজমা পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরণের কোনো বিপর্যয়ের শঙ্কা কম, তবে আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও পরিবর্তনশীল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাসার সোলার ডাইনামিকস অবজারভেটরি (এসডিও)-এর ধারণ করা অতিবেগুনী চিত্রে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডলে ওই বিশাল গহ্বরটি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। গত ১০ মে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৯ মিনিটে এই শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ঘটে। 

বিজ্ঞানীরা একে ‘এম৫.৭’ শ্রেণির সৌর শিখা বা সোলার ফ্লেয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশে ছিটকে পড়েছে করোনাল মাস ইজেকশন (সিএমই), যা মূলত চৌম্বকীয় সৌর প্লাজমার একটি বিশাল মেঘ। সোলার অ্যান্ড হেলিওস্ফেরিক অবজারভেটরি (সোহো)-এর মডেল অনুযায়ী, এই সিএমই’র মূল অংশটি অল্পের জন্য পৃথিবীকে এড়িয়ে যেতে পারে। তবে এর চার্জযুক্ত গ্যাসের তরঙ্গ আজ ১৩ মে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রকে স্পর্শ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে মেরু অঞ্চলে ভূ-চৌম্বকীয় অস্থিরতা বা মেরুজ্যোতি (অরোরা) দেখা যেতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ‘এআর৪৪৩৬’ অঞ্চলটি বর্তমানে অত্যন্ত অস্থিতিশীল। গত সপ্তাহে এটি সূর্যের উল্টো পাশে অবস্থানকালেও অন্তত পাঁচটি বড় সিএমই তৈরি করেছিল। সূর্যের ঘূর্ণনের কারণে এই সক্রিয় অঞ্চলটি এখন সরাসরি পৃথিবীর মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে পৃথিবীমুখী সৌর বিস্ফোরণ ও শক্তিশালী সিএমই’র ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

সৌর বিস্ফোরণ বা সোলার ফ্লেয়ার হলো মূলত তীব্র তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ। এগুলো পৃথিবীর দিকে এলে উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিপিএস, রেডিও সিগন্যাল এবং এমনকি বিদ্যুৎ গ্রিডেও বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। বর্তমানে সূর্য ‘সোলার সাইকেল ২৫’-এর সর্বোচ্চ সক্রিয় পর্যায়ের কাছাকাছি থাকায় এ ধরণের মহাজাগতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ আবহাওয়া সংস্থা এখন সার্বক্ষণিকভাবে সূর্যের এই অস্থির অঞ্চলের ওপর নজর রাখছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই সানস্পটটি যদি একইভাবে সক্রিয় থাকে, তবে খুব শীঘ্রই পৃথিবী শক্তিশালী কোনো সৌরঝড়ের সরাসরি আঘাতের মুখে পড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।