রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হোয়াটসঅ্যাপে বাড়ছে সাইবার হামলা, সুরক্ষার ৫ উপায়

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

জুন ২৩, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

হোয়াটসঅ্যাপে বাড়ছে সাইবার হামলা, সুরক্ষার ৫ উপায়

বার্তা আদান-প্রদান, ছবি ও গোপন ফাইল পাঠানো থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন হোয়াটসঅ্যাপ। তবে এই বিপুল জনপ্রিয়তাই এখন আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে হ্যাকাররা নিত্যনতুন কৌশলে ফাঁদ পাতছে।বিশেষজ্ঞরা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে জরুরি ৫টি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রথম ও সবচেয়ে প্রধান সুরক্ষাকবচ হলো অ্যাপের সেটিংস থেকে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ সুবিধাটি অবিলম্বে চালু করা। এই ফিচারটি সক্রিয় করলে ব্যবহারকারীকে একটি ৬ ডিজিটের গোপন পিন নম্বর সেট করতে হয়, যা মোবাইল নম্বর এবং এসএমএস ভেরিফিকেশনের বাইরেও অ্যাকাউন্টে সুরক্ষার একটি অতিরিক্ত স্তর যোগ করে। এর ফলে হ্যাকাররা যদি সিম কার্ডের নিয়ন্ত্রণ বা এসএমএস জালিয়াতির মাধ্যমে আপনার প্রাথমিক কোড পেয়েও যায়, তবুও এই বিশেষ পিন নম্বর ছাড়া তারা কোনোভাবেই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না। 

দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন চ্যাটে আসা অজানা বা সন্দেহজনক ফিশিং লিংক ও বার্তার বিষয়ে চরম সতর্ক থাকতে হবে। হ্যাকাররা সাধারণত উপহার বা সিকিউরিটি আপডেটের লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন ভুয়া লিংক পাঠায়, যেখানে ক্লিক করলেই নিমেষেই ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে যায় বা ডিভাইসে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ইনস্টল হয়ে পড়ে।তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়মটি হলো, নিজের ফোনে আসা ৬ ডিজিটের কনফার্মেশন কোডটি কখনোই কোনো পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

হ্যাকাররা অনেক সময় ভুলবশত কোড চলে যাওয়ার অজুহাতে বা বন্ধু সেজে এই কোডটি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, যা মূলত অন্য একটি ডিভাইসে আপনার অ্যাকাউন্টটি সচল করার চক্রান্ত। চতুর্থ পদক্ষেপ হিসেবে, অ্যাপের সেটিংস অপশনে গিয়ে ‘লিংকড ডিভাইসেস’ তালিকায় কোন কোন কম্পিউটার বা অন্য ডিভাইস সংযুক্ত আছে তা নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। সেখানে কোনো অপরিচিত বা সন্দেহজনক ডিভাইসের উপস্থিতি দেখামাত্রই তা তাৎক্ষণিকভাবে লগ আউট করে দেওয়া ডিজিটাল সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। 

পঞ্চম ও শেষ পদক্ষেপটি হলো, নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ্লিকেশনটি সর্বদা সর্বশেষ সংস্করণে আপডেট রাখা। হ্যাকাররা মূলত অ্যাপের পুরনো সংস্করণের নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোকে পুঁজি করে আক্রমণ চালায় এবং নতুন আপডেটের মাধ্যমে সেই ত্রুটিগুলো দূর করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো মানুষের অসচেতনতা বা সাময়িক অসতর্কতা। সাইবার অপরাধীরা এখন সরাসরি কোনো জটিল কারিগরি সিস্টেম হ্যাক করার চেয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বোকা বানিয়ে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে বেশি সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করছে। তাই অপরিচিত মাধ্যম থেকে আসা যেকোনো বার্তা এড়িয়ে চলা এবং অ্যাপের নিজস্ব নিরাপত্তা টুলগুলো সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে এই হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।