জুলাই ২৯, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
ফেসবুকে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অর্গানিক রিচ বা বিনা খরচে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনের খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অনলাইন ব্যবসায়ীরা চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন। একটি পেজে লাখো অনুসারী থাকলেও টাকা খরচ না করলে পোস্ট সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না।একে অনেক বিশ্লেষক ডিজিটাল চাঁদাবাজির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক তাদের অ্যালগরিদমে ব্যাপক পরিবর্তন এনে পে-টু-প্লে মডেল চালু করেছে। এর ফলে কোনো ব্যবসায়ীর পেজে এক লাখ অনুসারী থাকলেও একটি পোস্ট মাত্র ১০০ থেকে ২০০ জনের টাইমলাইনে পৌঁছায়। পণ্য বিক্রি করতে হলে বাধ্য হয়ে ডলার খরচ করে বুস্ট বা স্পন্সরড বিজ্ঞাপন দিতে হয়। এই বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট মূল্যের নয়, বরং এটি একটি রিয়েল টাইম গ্লোবাল নিলাম প্রক্রিয়া।একই সময়ে হাজার হাজার ব্যবসায়ী নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্রেতাকে লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন দেন।
নিলামে যে ব্যবসায়ী প্রতি ক্লিকে সবচেয়ে বেশি ডলার খরচ করতে রাজি থাকেন, ফেসবুক তাকেই ক্রেতার টাইমলাইনে জায়গা দেয়। এতে কাস্টমার পাওয়ার খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। পাঁচ বছর আগে একটি মেসেজ বা লিড পেতে যেখানে মাত্র দুই সেন্ট খরচ হতো, এখন সেখানে ২০ থেকে ৩০ সেন্ট গুণতে হচ্ছে। একটি পণ্যে ৩০০ টাকা লাভ হলে কাস্টমার ধরতে বিজ্ঞাপনেই ২০০ টাকা চলে যাচ্ছে। প্যাকেজিং ও ডেলিভারি খরচ মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের লাভের খাতা প্রায় শূন্য থাকছে।এই ডিজিটাল নির্ভরতা থেকে বের হতে সফল উদ্যোক্তারা বিকল্প পথ খুঁজছেন।
তারা ফেসবুককে কেবল কাস্টমার ধরার প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এরপর ক্রেতার নাম, ফোন নম্বর ও ক্রয়ের ইতিহাস নিজস্ব ডেটাবেস বা সিআরএম-এ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে একই ক্রেতাকে নতুন পণ্যের তথ্য জানাতে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস এপিআই এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় বার্তা পাঠানো হয়।ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির হার যেখানে মাত্র দুই শতাংশ, হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা খোলার হার সেখানে প্রায় ৯৮ শতাংশ।আগামী দিনগুলোতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে নিজস্ব ক্রেতা-তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং প্রযুক্তিগত স্বয়ংক্রিয়তা ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন