রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে যে দশটি তথ্য আপনার জানা প্রয়োজন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে যে দশটি তথ্য আপনার জানা প্রয়োজন

সূর্যগ্রহণ

সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী যখন নির্দিষ্ট এক সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ার মাধ্যমে সূর্যগ্রহণ ঘটে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণের মুহূর্তে দিনের আলো হঠাৎ কমে গিয়ে আকাশে এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করে। সূর্যের উজ্জ্বল চাকতি আড়াল হয়ে গেলে তখন এর বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা দৃশ্যমান হয়। এটি কেবল একটি দৃষ্টিনন্দন মহাজাগতিক ঘটনাই নয়, বরং সৌরবায়ু ও মহাকাশের নানা প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আজকের পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর, স্পেন ও পর্তুগালের ওপর দিয়ে গেছে।সূর্যগ্রহণ কীভাবে সংঘটিত হয় তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে এর ছায়া ফেলে, তখন সূর্যগ্রহণ হয়। আকারে সূর্য চাঁদের চেয়ে প্রায় চারশো গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে এর দূরত্বও প্রায় চারশো গুণ বেশি। এই বিশেষ দূরত্বের সুবাদে পৃথিবী থেকে দুটিকে প্রায় একই আকারের মনে হয়, যার ফলে চাঁদ সূর্যের পুরো চাকতি ঢেকে ফেলতে পারে। প্রধানত চার ধরনের গ্রহণ দেখা যায় — পূর্ণ, আংশিক, বলয়গ্রাস ও হাইব্রিড।

বলয়গ্রাস গ্রহণের সময় চাঁদের আপাত আকার ছোট থাকায় সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল বলয় তৈরি হয়, যা রিং অব ফায়ার নামে পরিচিত।পূর্ণগ্রহণের সময় সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। সাধারণত সূর্যের তীব্র আলোর কারণে এটি স্বাভাবিক সময়ে দেখা অসম্ভব। অথচ সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা পাঁচ হাজার পাঁচশো ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও করোনার তাপমাত্রা প্রায় কুড়ি লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই তাপমাত্রার তারতম্য সৌরবিজ্ঞানের অন্যতম বড় একটি রহস্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। গ্রহণের সময় দিনের আলো হঠাৎ কমে যাওয়ায় পরিবেশের তাপমাত্রাও কিছুটা হ্রাস পায়।

পরিবেশ ও আলোর এই আকস্মিক পরিবর্তনে কিছু পাখির আচরণে পরিবর্তন আসে এবং নিশাচর প্রাণীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে।পূর্ণগ্রহণের সময় আকাশ অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় উজ্জ্বল কিছু নক্ষত্র ও গ্রহ খালি চোখে দেখা যেতে পারে। তবে একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে পূর্ণতার এই পর্যায় খুব দীর্ঘ হয় না এবং সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। আজকের এই গ্রহণেও অধিকাংশ এলাকায় পূর্ণতার স্থায়িত্ব ছিল দুই মিনিটের কম। সূর্যের উজ্জ্বল পৃষ্ঠ আড়াল থাকায় বিজ্ঞানীরা এই সুযোগে করোনার বিভিন্ন অংশ পর্যবেক্ষণ করে সৌরবায়ু সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করেন।গ্রহণ পর্যবেক্ষণের সময় চোখের সুরক্ষায় অনুমোদিত সৌর চশমা বা নিরাপদ মাধ্যম ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।