সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নতুন সংকটে ইরান, ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১১, ২০২৫, ০৪:২১ পিএম

নতুন সংকটে ইরান, ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র ইরান এবার এক ভিন্নধর্মী ও ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। সামরিক শক্তিতে বলীয়ান এবং নিয়মিত যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকা দেশটি এখন তীব্র পানি সংকটে ধুঁকছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে।

রাজধানী তেহরানের প্রধান খাবার পানির উৎস আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে যেতে পারে, যা প্রায় এক কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

তেহরান পানি সরবরাহকারী সংস্থার পরিচালক বেহজাদ পারসা জানিয়েছেন, শহরের প্রধান জলাধার আমির কাবির বাঁধে বর্তমানে মাত্র এক কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার পানি অবশিষ্ট রয়েছে।

বর্তমান ব্যবহারের হার অনুযায়ী, এই পরিমাণ পানি দিয়ে মাত্র আর ১৪ দিন তেহরানকে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তেহরান প্রদেশ দীর্ঘমেয়াদি খরার কবলে পড়েছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে অঞ্চলটিকে সবচেয়ে গুরুতর পানি সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক মাসে যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হয়, তবে তেহরানের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই পানীয় জলের সরবরাহ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

টানা পাঁচ বছর ধরে চলা শুষ্কতা এবং রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে তেহরান পৌরসভার পানির কলগুলো শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। জলাধারের পানির স্তর ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং এর প্রভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এখনই উল্লেখযোগ্যভাবে পানি ব্যবহারে কাটছাঁট না করা হয়, তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাজধানীর কিছু অংশ ‘

ডে জিরো’ বা পানিশূন্যতার মুখোমুখি হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ট্যাংকারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করতে হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে কেবল পানি সংকট নয়, বরং ‘পানির দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে প্রাকৃতিক এই সম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়।

এর আগে পানির তীব্র সংকটে থাকা ইরানের খুজেস্তান ও সিস্তান-বেলুচিস্তানসহ একাধিক প্রদেশে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। এবার খোদ রাজধানী তেহরানে এই সংকট ঘনীভূত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ইরান সরকার আগামী সাত বছরে পানি ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিনিয়োগের অভাবে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।