নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৭:০২ পিএম
গাজা উপত্যকার শান্তি ফিরিয়ে আনার আন্তর্জাতিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে প্রস্তুত হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটি জানিয়েছে, তারা গাজায় মোতায়েনের জন্য ২০ হাজার সেনা প্রস্তুত করছে এবং আন্তর্জাতিক অনুমোদন পাওয়ার পরই এই বিশাল বাহিনী উপত্যকায় পাঠানো হবে।
শনিবার টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাফরি স্যামসুদ্দিন জানান, মোতায়েনের জন্য ইন্দোনেশিয়া দুটি সম্ভাব্য পথ অনুসন্ধান করছে।
প্রথমত, জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষা মিশন এবং দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উদ্যোগে গঠিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অধীনে মোতায়েন।
দ্বিতীয় বিকল্পটি কার্যকর করার জন্য রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সমন্বয় প্রয়োজন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আরব দেশগুলো যেমন সৌদি আরব, জর্ডান, মিসর, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যদি সবুজ সংকেত দেয়, তবে ইন্দোনেশিয়া আনন্দের সঙ্গে এই শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেবে। তবে এর পাশাপাশি ইসরায়েলের অনুমতিও সেনা মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাবিত ২০ দফা উদ্যোগের প্রথম ধাপের অংশ। এই উদ্যোগের আওতাতেই গত ১০ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এদিকে সম্প্রতি জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ জাকার্তা সফর করেছেন। এই সময়ে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো আলোচনা করেন। সেই বৈঠকে দুই দেশ গাজা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ইউসুফ আহমেদ আল-হুনাইতির সঙ্গে বৈঠকের পর ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, দুই দেশ যৌথভাবে একটি কমিটি গঠন করবে, যা গোয়েন্দা তথ্য ও হালনাগাদ পরিস্থিতি বিনিময় করবে। গাজা সীমান্তের নিকটবর্তী দেশ হিসেবে জর্ডানের তথ্য ইন্দোনেশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ইন্দোনেশিয়ার এই গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োজন। দুই দেশ প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নেও কাজ করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন