নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৭:৩৬ পিএম
দুই বছরের যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ সময় শিক্ষাবিচ্ছিন্ন থাকার পর গাজা উপত্যকার কিছু শিশু আবারও পড়াশোনায় ফিরতে শুরু করেছে। আংশিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত স্কুল ভবন, তাঁবু বা অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্রে চলছে তাদের নতুন শিক্ষাজীবন।
এক মাস ধরে কার্যকর থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) এবং গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এলাকাগুলোতে ধীরে ধীরে স্কুল খুলে দেওয়া হচ্ছে।
জাতিসংঘের মূল্যায়ন অনুযায়ী, গাজার ৯৭ শতাংশ স্কুল কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, যার বেশিরভাগই "সরাসরি আঘাত" পেয়েছে এবং সম্পূর্ণ পুনর্গঠন বা বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন।
ইসরাইলি হামলায় অনেক ফিলিস্তিনি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া অবস্থায় নিহত হয়েছে।ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজারিনি জানিয়েছেন, স্কুলগুলো বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হওয়ায়, সংস্থাটি নতুন "অস্থায়ী শিক্ষার স্থান" চালু করেছে। প্রায় ২৫ হাজার শিশু এ ধরনের স্থানে পড়াশোনা শুরু করেছে এবং প্রায় ৩ লাখ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হচ্ছে।তবে গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, স্ট্রিপজুড়ে ৭ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে, অর্থাৎ অধিকাংশই এখনো আনুষ্ঠানিক পড়াশোনায় ফিরতে পারেনি।
ক্ষুদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবতা আরও কঠিন। এক ছাত্রের বর্ণনায়: "আমার কাছে বই, নোটবুক, কলম বা ব্যাগ কিছুই নেই। নেই চেয়ার, বিদ্যুৎ, পানি—এমনকি যাওয়ার মতো রাস্তাও নেই।"আরেক শিশু জানায়, শ্রেণীকক্ষে যাওয়ার আগেই তাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে আরও মৌলিক সংগ্রাম: "প্রতিদিন সকালে আমাকে পানি সংগ্রহ করতে হয়, রুটির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়। আমাদের পরিবার ১০ বার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, আমাদের আর কোনো বাড়ি নেই।"ধ্বংসস্তূপের মাঝেও শিক্ষা ফিরে পাওয়ার এই প্রচেষ্টা গাজার শিশুদের দৃঢ়তা ও মানবিক সংকটের গভীরতাকে নতুন করে সামনে আনছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন