নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ১০:২৮ পিএম
ইউরোপজুড়ে দ্রুত কমে যাচ্ছে ভূ-পৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ পানির মজুত। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) ও ওয়াটারশেড ইনভেস্টিগেশনসের বিজ্ঞানীরা উপগ্রহের মহাকর্ষীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, দক্ষিণ ও মধ্য ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল মারাত্মকভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে রয়েছে—স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি থেকে শুরু করে রোমানিয়া ও ইউক্রেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ইউসিএলের পানি সংকট বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা বলেন,
"আমরা এখন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা সীমার কথা বলি না; পৃথিবী ২ ডিগ্রির দিকে এগোচ্ছে, আর এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব আমরা এখনই দেখছি।"
গবেষকরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ পানির প্রবণতাও মোট পানির প্রবণতার মতোই নিচের দিকে নামছে। অর্থাৎ, ইউরোপের লুকানো পানির ভাণ্ডারও দ্রুত কমে যাচ্ছে।বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন: মোট বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়লেও, বৃষ্টির ধরন বদলে গেছে। ভারী বর্ষণ ও দীর্ঘ শুকনো সময়ের সংখ্যা বাড়ছে। এতে গ্রীষ্মে পানির বেশিরভাগ অংশ দ্রুত বয়ে যাচ্ছে এবং শীতের ভূগর্ভস্থ পানি পুনরায় পূরণের মৌসুম ছোট হয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ: দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে ৭০ শতাংশ পানীয় জল আসে ভূগর্ভস্থ পানি থেকে। সেখানে এই পরিবর্তন বিশেষ উদ্বেগজনক।খরা সতর্কতা: হাইড্রোলজি বিশেষজ্ঞ হান্না ক্লোক জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে আগামী বসন্ত ও গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডে কঠোর পানি সংকট দেখা দিতে পারে। পরিবেশ সংস্থা ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে যে, যথেষ্ট শীতকালীন বৃষ্টি না হলে ২০২৬ সাল পর্যন্ত খরা চলতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশন ২০৩০ সালের মধ্যে পানির দক্ষতা কমপক্ষে ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রেখেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল বড় রিজার্ভার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়। বরং এখনই:
পানি পুনর্ব্যবহার ও কম পানি ব্যবহার।
প্রকৃতি-নির্ভর সমাধান।
পানি ব্যবস্থাপনায় দ্রুত পরিবর্তনের দিকে এগোতে হবে।
এই পরিবেশ পরিবর্তনের প্রভাব এতদিন দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে চোখে পড়ত, তা এখন ইউরোপেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন