বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

একসঙ্গে ৩টি রিমোর্ট-সেন্সিং স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠাল ইরান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫, ১১:০০ এএম

একসঙ্গে ৩টি রিমোর্ট-সেন্সিং স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠাল ইরান

পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের সামর্থ্য আবারও জানান দিল ইরান। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাশিয়ার ভোস্টোচনি কসমোড্রোম (Vostochny Cosmodrome) থেকে একটি রুশ রকেটের মাধ্যমে একসঙ্গে তিনটি রিমোর্ট-সেন্সিং স্যাটেলাইট সফলভাবে কক্ষপথে পাঠিয়েছে দেশটি।

উৎক্ষেপণের বিস্তারিত: ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের ও ইরনা জানিয়েছে, রাশিয়ার শক্তিশালী ‘সয়ুজ-২.১বি’ (Soyuz-2.1b) উৎক্ষেপণযানের মাধ্যমে স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশে পাঠানো হয়।

এ নিয়ে ইরান সপ্তমবারের মতো রাশিয়ার রকেট ব্যবহার করে কক্ষপথে নিজেদের কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করল।স্যাটেলাইটগুলোর পরিচয় ও কাজ: ১. টোলু-৩ (পায়া): এটি ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট (ওজন প্রায় ১৫০ কেজি)।

এটি মূলত একটি উন্নত পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট, যার ৮০ শতাংশ উপাদান দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। ২. জাফর-২: এটি প্রাকৃতিক সম্পদ পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি ও পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহের জন্য নকশা করা হয়েছে। ৩. কাউসার-১.৫: এটি একটি স্মার্ট পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট, যাতে ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ (IoT) সক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে। এটি কৃষিখাত ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া: ইরানের স্পেস এজেন্সির প্রধান হাসান সালারিহ এই সফলতাকে মহাকাশ খাতের জন্য একটি ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এটিই প্রথমবার যখন ইরান একই মিশনে একাধিক স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাল। মস্কোতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেন, “সব নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির মধ্যেও এই স্যাটেলাইটগুলো আমাদের বিজ্ঞানীদের মেধার ফসল।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ইরান আগামী বছর ‘শহীদ সোলাইমানি’ নামে তাদের প্রথম টেলিযোগাযোগ স্যাটেলাইট ক্লাস্টার উৎক্ষেপণের বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে এই ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা তেহরান ও মস্কোর মধ্যকার কৌশলগত মিত্রতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।